ব্যয় করার অগ্রাধীকার খাতসমূহ - Chuadanga News | চুয়াডাঙ্গা নিউজ | ২৪ ঘন্টাই সংবাদ

Sidebar Ads

test banner

Breaking

Home Top Ad

Responsive Ads Here

Post Top Ad

Responsive Ads Here

Friday, December 29, 2017

ব্যয় করার অগ্রাধীকার খাতসমূহ

একজন মানুষ প্রতিদিন কোন না কোন খাতে অসংখ্য টাকা ব্যয় করে থাকে । ব্যয় করার ক্ষেত্রে একজন মুসলিম হিসেবে অবশ্যয় জানা দরকার, ইসলাম কোন কোন খাতে ব্যয় করার প্রতি উৎসাহ বা অগ্রাধীকার দেয়। তা না হলে এই ব্যয়টা অনেক সময় কল্যাণের চেয়ে অকল্যাণের পথেই বেশি হয়ে থাকে। আর তা মনের অজান্তেই হয়ে যায়। ব্যয়টা যদি সৎ কাজের চেয়ে অসৎকাজে বেশি হয় তাহলে সমাজ ব্যবস্থার উপর এর নিতিবাচক প্রভাব পড়ে তখন সমাজে অস্থিরতা ও খারাপ কাজের প্রবনতা বেড়ে যায়। তাই ব্যয় করার ক্ষেত্রে প্রত্যেকের সতর্ক দৃষ্টি রাখা আবশ্যক। কোন কোন খাতে ইসলাম ব্যয় করতে উৎসাহ দেই এ সম্পর্কে সূরা বাকারার ২১৫ নং আয়াতে মহান আল্লাহ তা’য়ালা বলেন- يَسْأَلُونَكَ مَاذَا يُنفِقُونَ ۖ قُلْ مَا أَنفَقْتُم مِّنْ خَيْرٍ فَلِلْوَالِدَيْنِ وَالْأَقْرَبِينَ وَالْيَتَامَىٰ وَالْمَسَاكِينِ وَابْنِ السَّبِيلِ ۗ وَمَا تَفْعَلُوا مِنْ خَيْرٍ فَإِنَّ اللَّهَ بِهِ عَلِيمٌ﴾

(হে নবী) লোকেরা আপনাকে জিজ্ঞেস করছে, আমরা কি ব্যয় করবো? আপনি বলেদিন , যে অর্থই তোমরা ব্যয় কর না কেন তা নিজেদের পিতা-মাতা, আত্মীয়-স্বজন, ইয়াতীম, মিসকিন ও মুসাফিরদের জন্য ব্যয় করো৷ আর যে সৎকাজই তোমরা ব্যয় করবে সে সম্পর্কে আল্লাহ অবগত হবেন ৷

নিম্নে ব্যয়ের অগ্রাধীকার খাতসমূহ উল্লেখ করা হলো।

>>প্রথমে আল্লাহ্‌র পথে ব্যয়ঃ –

ব্যয় করার ক্ষেত্রে প্রথমেই যেটা ভাবতে হবে সেটা হলো ব্যয়টা সৎ পথে হচ্ছে না অসৎ পথে হচ্ছে? আর সৎ পথ বলতে আমি বুঝি আল্লাহর নির্দেশিত পথে বা আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠার কাজে। অন্য ভাবে বলতে গেলে বলা যায় দ্বীন প্রচার, প্রসার ও প্রতিষ্ঠার কাজে যে ব্যয় করা হয় তাই হলো আল্লাহর পথে ব্যয়। একজন মানুষ যখনই আল্লাহর পথে চলার ইচ্ছা পোষণ করে তখন থেকেই মূলত শুরু হয় আল্লাহর পথে ব্যয়। আল্লাহর পথে ব্যয় শুধু টাকা-পয়সাই বুঝায় না বরং এর থেকে আরো অনেক কিছু। যেমন হতে পারে অর্থ-সম্পদ, সংসারের মহাব্বত, ক্ষমতার লোভ, ভালবাসা, সম্পর্ক. সময় ইত্যাদি। এ সব কিছু আল্লাহর জন্য sacrifice করাই হলো আল্লাহর পথে ব্যয়। আল্লাহর পথে ব্যয়ের আগ্রহটা এমন পর্যায়ে পৌছতে হবে যে আল্লাহর সন্তুষ্ঠির মোকাবিলায় দুনিয়ার কোন জিনিসকেই সে প্রিয়তর মনে করবে না৷ আর যে জিনিসের প্রতি তার ভালোবাসা এমনভাবে প্রাধান্য বিস্তার করে যে, আল্লাহর পথে চলার জন্য সে তাকে ত্যাগ করতে পারছে না, তবে সেটিই হচ্ছে তার জন্য একটি দেবতা৷ এই দেবতাকে যতক্ষণ পর্যন্ত সে বিসর্জন দিতে বা ত্যাগ করতে না পারবে ততক্ষণ পর্যন্ত সে মুমিন হতে পারবে না। যেমন আল্লাহ তা’য়ালা বলেন-

لَنْ تَنَالُوا الْبِرَّ حَتّى تُنْفِقُوْا مِمَّا تُحِبُّوْنَ তোমরা প্রকৃত পুণ্য লাভ করতে পারবে না সেই পর্যন্ত যে পর্যন্ত না তোমরা তোমাদের প্রিয় বস্তুগুলো আল্লাহর পথে ব্যয় না করবে।’ সূরা আনফাল-192

অতএব মানুষ যে গুলোকে সবচেয়ে বেশি ভালবাসে অথবা যে ভালবাসার টান তাকে আল্লাহর পথে চলতে তাকে বাধা প্রদান করে সেই বালবাসাকে আল্লাহর জন্য বিসর্জন দেয়াই হলো আল্লাহর পথে ব্যয়।

অন্যত্র আল্লাহা তা’য়ালা বলেন-وَأَنفِقُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَلَا تُلْقُوا بِأَيْدِيكُمْ إِلَى التَّهْلُكَةِ ۛ وَأَحْسِنُوا ۛ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُحْسِنِينَ﴾

অর্থ- তোমরা আল্লাহর পথে ব্যয় করো এবং নিজের হাতে নিজেকে ধ্বংসের মুখে নিক্ষেপ করো না ৷ আর অনুগ্রহ প্রদর্শনের পথ অবলম্বন করো, কেননা আল্লাহ অনুগ্রহ প্রদর্শনকারীদেরকে ভালোবাসেন ৷ বাকারা-১৯৫

এমন ব্যয়কেই রাসূলুল্লাহ্ (সা.) সুসংবাদ দেন এই বলে যে- مَنْ أَنْفَقَ نَفَقَةً فِي سَبِيلِ اللهِ كَانَتْ لَهُ بِسَبْعِ مِائَةِ ضِعْفٍ যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে কোন কিছু ব্যয় করবে তাকে সাতশত গুণ ছওয়াব প্রদান করা হবে। (আহমাদ,সনদ ছহীহ)

অন্য একটি হাদিসে রাসূলুল্লাহ্ (সা.) বলেন-হে আদম সন্তান! তোমার হাতে তোমার প্রয়োজনের অতিরিক্ত যা রয়েছে তা আল্লাহর পথে ব্যয় করাই তোমার জন্য মঙ্গলজনক এবং তা ব্যয় না করা তোমার জন্য ক্ষতিকর। তবে হ্যাঁ, নিজের প্রয়োজন অনুপাতে খরচ করায় তোমার প্রতি কোন ভর্ৎসনা নেই।’ (মুসলিম ১০৩)

>>নিজের জন্য ব্যয়-

অর্থ সম্পত্তি প্রথমে নিজের থেকে ব্যয় করা শুরু করতে হবে। ইসলাম চাই মানবিকতা, চাই একজন সুস্থ-সবল মানুষ। ইসলাম এমন চাই না যে, নিজে না খেয়ে না পরে সব কিছু উজাড় করে ব্যয় করতে থাকুক। ব্যক্তি নিজের চাহিদা, নিজের প্রয়োজন পূরণ না শুধু উজাড় করে ব্যয় করতে থাকলে সে, যে কোন সময় ভারসাম্য হারিয়ে ফেলতে পারে এবং আল্লাহর পথ থেকেই ছিটকে পড়তে পারে। তাই ইসলাম চায় একটি ভারসাম্যপূর্ণ জীবন। যেখানে নিজের প্রয়োজন পূরণ করার পর সে মানবতার জন্য হাত প্রসারিত করুক। আল্লাহ তা’য়ালা বলেন-وَيَسْأَلُونَكَ مَاذَا يُنفِقُونَ قُلِ الْعَفْوَ হে নবী আপনাকে করছেঃ আমরা আল্লাহর পথে কি ব্যয় করবো? বলেদিন- যা কিছু তোমাদের প্রয়োজন পূরণের পর অতিরিক্ত হয় (তার থেকে ব্যয় কর)

এ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ্ (সা.) বলেন- প্রথমে তুমি তোমার নিজ থেকে দান আরম্ভ কর। তারপর অতিরিক্ত থাকলে ছেলেমেয়ের জন্য খরচ কর। এর পরেও থাকলে নিজের আত্মীয়-স্বজনের উপর সাদাকাহ কর। এর পরেও যদি থাকে তাহলে অন্যান্য অভাবগ্রস্থদের উপর সাদাকাহ কর।’ (মুসলিম ২/৬৯২)

>>পিতা-মাতার জন্য ব্যয়-

ইসলাম চায় একজন মানুষ যে, নিজের প্রয়োজন পূরণের পর সব থেকে আগে যাদের হক আদায় করবে তারা হলেন পিত-মাতা। কারণ পিতা-মাতার হক্ব আদায়ের সাথে আল্লাহর সন্তষ্টির সম্পর্ক রয়েছে। তাদের সন্তুষ্টির উপর আল্লাহর সন্তুষ্টি আর তাদের অসুন্তষ্টির উপর আল্লাহর অসুন্তষ্টি নির্ভর করে। পিতা-মাতার অধিকারকে সন্তান নিজের অধিকার বলে মনে করব এবং তাদের ভরণ পোষনের পূর্ণ দায়িত্ব নিবে।

আল্লাহ তায়ালা বলেন-وَوَصَّيْنَا الْإِنْسَانَ بِوَالِدَيْهِ إِحْسَاناً অর্থঃআমি মানুষকে তার পিতা-মাতার সঙ্গে সদ্ব্যবহারের আদেশ দিয়েছি।

সন্তানের ধন-সম্পদের ওপর পিতা-মাতারই সর্বপ্রথম অধিকার রয়েছে। পিতা-মাতার জন্য তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী সন্তানকে অবশ্যই সম্পদ ব্যয় করতে হবে। পিতা-মাতার জন্য খরচ না করে সম্পদ পুঞ্জীভূত করা কোনো অবস্থাতেই সন্তানের জন্য সঠিক নয়।

রাসূলুল্লাহ্ (সা.) বলেন ঃ ‘তোমরা মায়ের সাথে, পিতার সাথে, বোনের সাথে, ভাইয়ের সাথে, অতঃপর নিকটতম আত্মীয়দের সাথে আদান প্রদান কর।’ (হাকিম ৩/৬১১) অতঃপর বলেন, ‘এগুলিই হচ্ছে খরচ করার স্থান। ঢোল-তবলা, ছবি এবং দেয়ালে কাপড় পরানো, এগুলো খরচের স্থান নয়।’ (ইব্ন আবী হাতিম ২/৬২০)

নিকট আত্মীয়ের মাঝে ব্যয় করা-

ইসলাম ব্যয় করার ক্ষেত্রে পিতামাতার পর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয় পিতা-মাতার আত্মীয় স্বজন বা নিকট আত্মীয়দেরর মাঝে। কেননা আত্মীয়তার সম্পর্ক যদি ভাল না থাকে তাহলে পারিবারিক বন্ধন ছিন্ন হয়ে যায়। আর যদি ভাল থাকে তাহলে একটি শক্ত ও মজবুক পারিবারিক ইউনিট প্রতিষ্ঠিত হয়। তাদের মাঝে গড়ে উঠে ভালবাসা ও সম্পৃতির এক সূদৃঢ বন্ধন যার প্রভাব গোটা সমাজ ব্যবস্থার উপর পড়ে। এসব কিছুর পিছনে মূল ভুমিকা পালন করে পরিবারের সদস্যদের মাঝে ব্যয় বা আদান-প্রদান। বিশেষ করে নিকট আত্মীয়ের মাঝে যারা গরীব তাদের কে দান করার ক্ষেত্রে ইসলাম বেশি উৎসাহ দেই। শুধু তাই নয় ইসলাম আত্মীয়ের মাঝে ব্যয় করাকে দ্বিগুন ছওয়াব বলে ঘোষনা করেছে। যেমন হাদিসে আছে একবার দুজন মহিলা সাহাবী রাসূল (সঃ) এর বাসায় গেলেন এবং এক সাহাবীকে বললেন আপনি গিয়ে রাসুল (সাঃ) কে বলুন, দুজন মহিলা দরজায় দাঁড়িয়ে আছে । তারা আপনার কাছে জানতে চাচ্ছে-যদি তারা তাদের সদাক্বাহ নিজ স্বামীকে দান করে এবং তাদের ঘরেই প্রতিপালিত ইয়াতীমদের দান করে তাহলে কি তা আদায় হবে তার প্রতিউত্তরে রাসুল (সাঃ) বলেন, তারা উভয়েই তাদের দানের জন্য দ্বিগুন ছওয়াব পাবে । এক আত্মীয়-স্বজনদের সাথে সদ্বব্যবহারের জন্য; দুই সদাক্বাহ করার জন্য (সহীহ মুসলিম হাদিস ২১৮৯); এর মাধ্যমে বুঝা যায় নিকট আত্মীয়ের মাঝে ব্যয় করা কতটা গুরুত্ব।

গরীব-মিসকিনদের জন্য ব্যয়

ইসলাম এমন একটি জীবন ব্যবস্থা যা সকল মানুষকেই সমান চোখে দেখে। দান করার ক্ষেত্রে নিজের আত্মীয়-স্বজন ছাড়াও যারা অসহায় গরীব-মিসকিন তাদের দানের ব্যপারে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছে। এরা এমন ব্যক্তি যারা নিজেদের অসহায়ত্বের কথা অন্যের কাছে বলতে পারেনা। আবার নিজেদের অর্থে নিজেদের নূন্যতম চাহীদাটুকুও তারা পূরণ করতে পারে না। এ জন্য যারা আর্থিকভাবে স্বচ্ছল আল্লাহ তা’য়ালা তাদের অর্থের মধ্যে রেখেছেন গরীব-মিসকিনদের হক। এ হক আদায় না করলে স্বচ্ছল ব্যক্তিরা তাদের কাছে ঋণী হয়ে থাকবে। এই দান সাদাকার মাধ্যমে মূলত আল্লাহ তা’য়ালা সমাজের উচু-নিচুর প্রভেদ তুলে দিতে চান, গড়তে চান সহানুভূতি, সম্পৃতির বন্ধনে আবদ্ধ এক সুন্দর সমাজ।

এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ তা’য়ালা বলেনঃ وَالَّذِينَ فِي أَمْوَالِهِمْ حَقٌّ مَعْلُومٌ، لِلسَّائِلِ وَالْمَحْرُومِ

(ধনিদের) তাদের সম্পদে নির্দিষ্ট হক রয়েছে। ভিক্ষুক এবং বঞ্চিতদের (যারা অভাবী অথচ লজ্জায় কারো কাছে হাত পাতে না) সকলের হক রয়েছে। (মাআরেজ- ২৪-২৫)

যেমন রাসুল (সা:) বলেন “যে ব্যক্তি আমার উম্মতের কারও অভাব কেবল তাকে খুশি করার জন্য পুরণ করে, সে আমাকে খুশি করে, আর যে আমাকে খুশি করে, সে আল্লাহকে খুশি করে । আল্লাহ তাকে জান্নাতে দাখিল করবেন।” (বায়হাকী)

অন্য হাদিসে রাসুল (সা:) বলেন “অভাবিকে দেখে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া উচিত নয় । বরং তাকে দেখে আলালাহর নেয়ামত স্বরণ করা উচিত” ।বুখারি

প্রতি ভাল কাজই সদাক্বাহঃ

মুমিনের সকল কর্মকান্ডকে ইসলাম সাদাকাহ হিসেবে গন্য করছেন যদি তা আল্লাহর জন্য হয়ে থাকে। যেমন নবী করিম (সঃ) বলেন-
আবু যার গিফারী (রাঃ) হতে বর্ণিত রাসুল (সাঃ) বলেছেন তোমার ভাইয়ের প্রতি তোমার হাস্যজ্জ্বল মুখ করাটাও একটা দান; কাউকে ভাল কাজের উপদেশ দেয়াটাও একটা দান; পথ ভুলা মানুষকে পথ দেখানোও একটা দান; কোন চক্ষুহীন ব্যক্তিকে সাহায্য করাও তোমার একটা দান; চলার পথ থেকে পাথর, কাঁটা বা হাড় সরিয়ে দেয়াও একটা দান এবং তোমার বালতি হতে তোমার (অপর) ভাইয়ের বালতি ভরে দেয়াও তোমার একটা দান (তিরমি্যী, মেশকাত হাদিস ১৮১৬/২৩);

পরিশেষে রাসূল (সঃ) এর এই হাদিস দিয়েই শেষ করলাম-

হে আদম সন্তান! তোমার হাতে তোমার প্রয়োজনের অতিরিক্ত যা রয়েছে তা আল্লাহর পথে ব্যয় করাই তোমার জন্য মঙ্গলকর এবং তা ব্যয় না করা তোমার জন্য ক্ষতিকর। তবে হ্যা, নিজের প্রয়োজন অনুপাতে খরচ করায় তোমার প্রতি কোন ভর্ৎসনা নেই।’ (মুসলিম ১০৩)

No comments:

Post a Comment

Post Bottom Ad

Responsive Ads Here