খালেদার মামলার রায় নিয়ে পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি - Chuadanga News | চুয়াডাঙ্গা নিউজ | ২৪ ঘন্টাই সংবাদ

Sidebar Ads

test banner

Breaking

Home Top Ad

Responsive Ads Here

Post Top Ad

Responsive Ads Here

Saturday, January 27, 2018

খালেদার মামলার রায় নিয়ে পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি

খালেদা জিয়ার দুর্নীতির মামলার আসন্ন রায় ঘিরে পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিএনপি ও আওয়ামী লীগ নেতারা। এই পরিস্থিতিতে করণীয় ঠিক করতে আজ শনিবার বিএনপির নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির জরুরি বৈঠক ডেকেছেন দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। রাত সাড়ে ৮টায় গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। গতকাল শুক্রবার বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, চেয়ারপারসনের মামলায় নেতিবাচক রায় হলে পরিণতি ভয়াবহ হবে। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, খালেদা জিয়ার গায়ে যদি একটা ফুলের আঁচড়ও পড়ে, তখন বাংলাদেশ গর্জে উঠবে। আর দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী বলেন, খালেদা জিয়াকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখার অপচেষ্টা মেনে নেওয়া হবে না। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ নেতা ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, রায় ঘিরে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলার চেষ্টা হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এ বিষয়ে সতর্ক আছে। আর আওয়ামী লীগের প্রচার ও  প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেছেন, রায় নিয়ে দেশে আবার কোনো জ্বালাও-পোড়াও হলে তাতে বিএনপিই পুড়ে ছারখার হয়ে যাবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের জবাবে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেছেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হুঁশিয়ারিমূলক বক্তব্য সংগত নয়। আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণা করবেন ঢাকার পঞ্চম জজ আদালত। বিএনপি-জামায়াত জোটের ২০০১-২০০৬ মেয়াদের সরকারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দুই কোটি ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের এ মামলার প্রধান আসামি। অভিযোগ প্রমাণিত হলে এ মামলায় খালেদা জিয়ার সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে। সে ক্ষেত্রে তিনি আগামী নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অযোগ্য হয়ে পড়বেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য কালের কণ্ঠকে জানিয়েছেন, রায় ঘিরে দলের পরবর্তী কর্মকৌশল ঠিক করা হতে পারে স্থায়ী কমিটির বৈঠকে। জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে এই রায়ের তারিখ ঘোষণা করায় আজকের বৈঠকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রুহুল কবির রিজভী গতকাল সাংবাদিকদের বলেন, ‘দেশের সার্বিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে শনিবার রাত সাড়ে ৮টায় গুলশানের কার্যালয়ে জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক ডেকেছেন ম্যাডাম।’ আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক আলোচনাসভায় গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘৮ ফেব্রুয়ারি যেটা আমরা আশঙ্কা করছি, সেদিন নেতিবাচক কোনো সিদ্ধান্ত সরকার কর্তৃক আদিষ্ট হয়ে যদি আদালত থেকে প্রকাশ পায়, তাহলে আমার মনে হয়, তখন থেকে এই সরকারের পতনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হবে। আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু করার ঘোষণা দিই বা না দিই এমন কিছু ঘটবে না, এমন নিশ্চয়তা আমরা দিতে পারি না।’ গয়েশ্বর বলেন, ‘সময় বলে দেবে কে নেতৃত্ব দেবে, কে রাজপথে থাকবে। সরকারকে বলব, জেলের ভয় দেখিয়ে লাভ নেই, আমরা খালেদা জিয়ার সঙ্গে বৃহত্তর কারাগারে আছি। আমরা সবাই খালেদা জিয়ার জেল পার্টনার।’ একই অনুষ্ঠানে শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি হচ্ছে ফয়সালার ডেট। ফয়সালা না হলে রাজনৈতিকভাবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দেশের মানুষ গর্জে উঠবে।’ গতকাল বিকেলে ফেনী সদরে এক অনুষ্ঠানে রুহুল কবীর রিজভী বলেন, ‘জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলাটি সাজানো ও ষড়যন্ত্রমূলক। এর মাধ্যমে আমাদের নেত্রীকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখার অপচেষ্টা হচ্ছে, যা কখনো মেনে নেওয়া হবে না। এ চেষ্টা রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করা হবে।’ অন্যদিকে রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দিরে মহানগর পূজা পরিবার দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি এই রায় ঘিরে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা করা যাবে না। আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, আমাদের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আগের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে তুলনা করা যাবে না। কারণ তারা দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ। পেশাদার এবং জনগণের বন্ধু। সুতরাং জনগণের ক্ষতি হলে তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘আইন সবার জন্য সমান। অপরাধ যে-ই করুক না কেন, তার যে শাস্তি হয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।’ সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বাংলাদেশ স্বাধীনতা পরিষদ আয়োজিত ‘দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পাঁয়তারার প্রতিবাদ’ শীর্ষক মানববন্ধনে হাছান মাহমুদ বিএনপি নেতাদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমরা দেখলাম, তাঁরা বলেছেন, খালেদা জিয়ার যদি শাস্তি হয়, তবে নাকি দেশে আগুন জ্বলবে। বিএনপি নেতাদের বলতে চাই, আপনারা দেশে অতীতেও আগুন জ্বালিয়েছেন। সেই আগুনে আপনারা জ্বলেছেন। আবারও যদি আগুন জ্বালানের চেষ্টা করেন, তাহলে সেই আগুনে আপনারাই জ্বলেপুড়ে ছারখার হয়ে যাবেন।’ হাছান মাহমুদ আরো বলেন, ‘আদালত স্বাধীনভাবে কাজ করে এবং স্বাধীন আদালতে খালেদা জিয়ার শাস্তি হতে পারে, আবার তিনি খালাসও পেতে পারেন। খালেদা জিয়া ক্ষমতায় থাকার সময় আদালত স্বাধীন ছিল না। তাই মির্জা ফখরুল ইসলাম সাহেবরা মনে করেন, তাঁদের সময় আদালত যেভাবে কাজ করত, এখনো মনে হয় সেভাবে আদালত কাজ করে।’ এদিকে সদ্যঃপ্রয়াত কথাসাহিত্যিক শওকত আলীর বাসায় তাঁর পরিবারকে সমবেদনা জানানোর পর বিকেলে সাংবাদিকদের মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা এখনো রায়টা পাইনি। আইনগতভাবে নীতিগতভাবে রায় ঘোষণা হওয়ার আগে পর্যন্ত আমরা রায় নিয়ে প্রতিক্রিয়া সেইভাবে বলতে পারব না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ নিয়ে আজকে কথা বলেছেন। এই কথা বলা কোনোমতেই সংগত নয়। তিনি সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে আছেন, যা দিয়ে তিনি গোটা আইন-শৃঙ্খলা পরিবেশকে...। এ থেকে এটা পরিষ্কার বোঝা যায়, তারা কী চিন্তা করছেন?’ ফখরুল অভিযোগ করে বলেন, ‘অনেক দিন আগে থেকেই সরকারের লোকজন এই মামলা নিয়ে আগাম বক্তব্য দেওয়া শুরু করেছেন। প্রধানমন্ত্রী বহু আগেই রায় দিয়ে দিয়েছেন। নিশ্চয় মনে আছে, অনেক আগেই তিনি বলে দিয়েছিলেন এতিমের টাকার ব্যাপারে। অন্য মন্ত্রীরাও বলছেন। তাঁরা প্রতিটি দিন, প্রতিটি মুহূর্ত, প্রতিটি ক্ষণ হুমকি দিয়েছেন, তাঁরা শক্তি প্রয়োগ করেছেন, বল প্রয়োগ করেছেন। কয়েক দিন আগে এরশাদ সাহেব রংপুরে বলেছেন, আর মাত্র কয়েক দিন, তারপর যেতে হবে জেলে। তাঁর দলের একজন প্রতিমন্ত্রীও একই কথা বলেছেন। তাঁদের কথা ও রায় নিয়ে ক্ষমতাসীনদের এই ধরনের কথা দিয়ে এটাই প্রমাণিত হয়, আগাম বলে দেওয়া, তাঁরা পূর্বনির্ধারিত, পরিকল্পিত। দে আর প্রিপেয়ার্ড ফর এভরিথিং।’

No comments:

Post a Comment

Post Bottom Ad

Responsive Ads Here