দায়িত্বহীন ব্যাটিংয়ে লজ্জার হার বাংলাদেশের - Chuadanga News | চুয়াডাঙ্গা নিউজ | ২৪ ঘন্টাই সংবাদ

Sidebar Ads

test banner

Breaking

Home Top Ad

Responsive Ads Here

Post Top Ad

Responsive Ads Here

Friday, January 26, 2018

দায়িত্বহীন ব্যাটিংয়ে লজ্জার হার বাংলাদেশের

ত্রিদেশীয় সিরিজে ফাইনালের আগে চার ম্যাচের চারটিতেই জেতার আশা ছিল বাংলাদেশের। টানা তিন ম্যাচ জেতার পর এমন ধাক্কাই খেল মাশরাফিবাহিনী তাতে যেন কাঁপনই ধরে গেল। চতুর্থ ম্যাচে এসে এমনই বিধ্বস্ত হলো, লজ্জা মিলল। এমন এক দলের বিপক্ষে ১০ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারল যে দলটিই কিনা শনিবার সিরিজের ফাইনালে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ। শ্রীলঙ্কা দেখিয়ে দিল বাংলাদেশকে। সিরিজে বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে বড় ব্যবধানে (১৬৩ রানে) হেরেছিল শ্রীলঙ্কা। ফাইনালের আগে শেষ ম্যাচে উল্টো শ্রীলঙ্কা বড় ব্যবধানে জিতল। প্রতিশোধ যেন নিয়ে নিল। বাংলাদেশকে লজ্জা দিয়ে আয়েশি জয় তুলে নিল। দেশের মাটিতে এর আগে কখনই এমন লজ্জাজনক হার হয়নি বাংলাদেশের। দেশের মাটিতে প্রথমবারের মতো ১০ উইকেটে হারল বাংলাদেশ। সেই সঙ্গে দেশের মাটিতে ২২৯ বল বাকি থাকতে যে হেরেছে বাংলাদেশ, এটিই বল হাতে রেখে দেশের মাটিতে সবচেয়ে বড় হার বাংলাদেশের। এর আগে দেশের মাটিতে ২০০৬ সালে জিম্বাবুইয়ের বিপক্ষে ৯ উইকেটের হারটিই বড় হার ছিল। ২০১১ সালের বিশ্বকাপে ৫৮ রানে অলআউট হওয়ার পর যে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ২২৬ বল বাকি থাকতে হেরেছিল বাংলাদেশ, সেটি দেশের মাটিতে সবচেয়ে বেশি বল হাতে থাকতে বাংলাদেশের হারের রেকর্ড ছিল। বৃহস্পতিবার সেই লজ্জার রেকর্ডকেও পেছনে ফেলল বাংলাদেশ। বাংলাদেশ যখন ৮২ রানে গুটিয়ে যায় তখনই শ্রীলঙ্কা যে জিতবে তা বোঝা হয়ে যায়। শুধু দেখার বিষয় থাকে কত বড় জয় পায় বাংলাদেশ। এমনভাবে গুটিয়ে যাওয়ার পরও কেমন বোলিং উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ বোলাররা। কিন্তু কী দেখার মিলল? কিছুই করতে পারলেন না বাংলাদেশ বোলাররা। ব্যাটসম্যানরা যে ব্যর্থতার পথ তৈরি করে দেন, যে হারের পথ তৈরি করে দেন; সেই পথেই হাঁটা ছাড়া যেন আর কোন পথই খোলা থাকে না বোলারদের সামনে। শ্রীলঙ্কার একটি উইকেটও তুলে নেয়া যায়নি। দুই ওপেনার ধানুশকা গুনাথিলাকা (৩৫*) ও উপুল থারাঙ্গা (৩৯*) মিলে ১১.৫ ওভারেই ৮৩ রান করে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের শেষ ম্যাচটি খেলার আগে প্রতিটি ম্যাচেই টপঅর্ডাররা নৈপুণ্য দেখিয়েছেন। কিন্তু বৃহস্পতিবার পুরো উল্টে গেল সব। টপঅর্ডাররা ব্যর্থ হলেন। তাতে করে বাংলাদেশও ব্যর্থ হলো। দলের সেরা পাঁচ ব্যাটসম্যানকে আগে রাখার ঝুঁকি নেয়া হয়েছে। তাতে টানা তিন ম্যাচেই সাফল্য মিললেও চতুর্থ ম্যাচে এসে বোঝা গেল ঝুঁকি সফল না হলে ব্যর্থতাই শুধু ধরা পড়ে। মাঝসারির ব্যাটসম্যানরা যে টপঅর্ডার ব্যর্থ হলে কিছুই করতে পারবেন না তাও যেন বোঝা হয়ে যায়। মুহূর্তেই বাংলাদেশের উইকেট পতন হতে থাকে। পেসার সুরঙ্গ লাকমালের বলগুলো যেন বাংলাদেশ ব্যাটসম্যানদের সামনে গোলার মতো আসতে থাকে। তাতে করে ১৬ রানে তিন উইকেট পতনের পর ৩৪ রানে গিয়ে আরেকটি উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ৫৭ রানে গিয়ে ৫ উইকেটের পতনের পরতো বাংলাদেশের জয়ের সম্ভাবনা উড়ে যায়। সাকিব আল হাসান (৮) রান নিতে গিয়ে রানআউট হয়েছেন। ধানুশকা গুনাথিলাকা অসাধারণ থ্রো করে সাকিবকে আউট করেন। এ উইকেটটি বাংলাদেশের জন্য দুর্ভাগ্য বয়ে আনে। অন্যদিকে শ্রীলঙ্কার জন্য যেন সৌভাগ্য হয়ে ধরা দেয়। বাকিদের মধ্যে এনামুল হক বিজয় আবার ব্যর্থ হন। সৌম্য সরকারের পরিবর্তে বিজয়কে ওপেনিংয়ের জন্য ভাবা হয়। কিন্তু ঘরোয়া লীগে দুর্দান্ত খেলে আবার জাতীয় দলে ফেরা বিজয় যেন নিজেকে হারিয়ে খুঁজে ফিরছেন। কিন্তু পায়ের নিচে মাটি খুঁজে পাচ্ছেন না। দলের ৫ রান হতেই বাজে একটি শট খেলে লাকমালের বলে বোল্ড হয়ে যান। এরপরই ১৫ রান হতেই সাকিব রানআউট হয়ে যান। টানা তিন ম্যাচে হাফ সেঞ্চুরি করেন তামিম ইকবাল। প্রতিবার সেঞ্চুরির কাছে গিয়েও তা স্পর্শ করতে পারেননি। দুর্দান্ত ফর্মে আছেন। চার ম্যাচে চার জয় হতো বাংলাদেশের। যদি শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেও জিততো। এমন ম্যাচে মনে করা হচ্ছিল তামিমও নাকি আবার চার ম্যাচে চার হাফ সেঞ্চুরি করে রেকর্ডবুকে নিজের নাম যুক্ত করে ফেলেন। কিন্তু তামিমও এদিন ব্যর্থ হলেন। ব্যর্থতা যেদিন ঘিরে ধরে সবদিক থেকেই সেই ব্যর্থতার ছোঁয়া লাগে। সাকিব আউটের পর ১ রান স্কোরবোর্ডে যোগ হতেই তামিমও সাজঘরের পথ ধরেন। ধানুশকা ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে অসাধারণ ক্যাচ ধরেন। লাকমাল অসাধারণ বোলিং করেন। টানা তিন উইকেটের দুটিই তিনি শিকার করেন। এমনকি ৩৪ রানে গিয়ে যে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদও (৭) আউট হন, সেটিও লাকমালের বলেই। লাকমাল এমন বোলিংই করেন এদিন শুরুতেই বাংলাদেশের ইনিংসের মাজা ভেঙ্গে দেন। শ্রীলঙ্কা বিপদের মধ্যে এগিয়ে যাচ্ছে। গত বছর থেকে একের পর এক ওয়ানডে হার যেন শ্রীলঙ্কাকে বিধ্বস্ত করে তুলেছে। এর মধ্যেও এই সিরিজে থিসারা পেরেরা কি দুর্দান্ত অলরাউন্ড নৈপুণ্য দেখিয়ে চলেছেন। লাকমাল যদি শুরুতে বাংলাদেশের বারোটা বাজিয়ে দেন তাহলে মাঝে পেরেরা আসল পেরেগটি বসান। ৫৭ রানে গিয়ে যে সাব্বির রহমান রুম্মন (১০) ও ৭১ রানে গিয়ে আবুল হাসান রাজুকে (৭) আউট করে দেন পেরেরাই। বাংলাদেশ ১০০ রান করতে পারবে কিনা সেই শঙ্কাই যেন তৈরি হয়ে যায়। যে দলটি সিরিজে এত দুর্দান্ত খেলতে থাকে সেই দলটিই কিনা সিরিজের শেষ ম্যাচটিতে এসে এমন বিপত্তির সম্মুখীন হয়ে যায়। মুশফিকুর রহীম উইকেটে থাকেন। তাই ভরসাও থাকে। ইনিংসটা একটু বড় হতে পারে। শুরুতেই পেরেরার বলে ক্যাচ আউট হওয়া থেকে বাঁচা মুশফিক চেষ্টাও করেন। কিন্তু দলের ৭৯ রানের বেশি উইকেটে টিকে থাকতে পারেননি মুশফিক (২৬)। দুশমান্থা চামিরার বলে আউট হয়ে যান। তবে দলের হয়ে সর্বোচ্চ ইনিংসটি খেলেন মুশফিক। শেষদিকে চামিরা ও স্পিনার সান্দাকান মিলে বাংলাদেশের ইনিংসকে সত্যিই এক শ’ রানের নিচে বেঁধে রাখেন। শুরুতে লাকমাল ও মাঝে পেরেরার পথ অনুসরণ করে শেষে বাংলাদেশের ইনিংসের সর্বনাশ করেন চামিরা ও সান্দাকান। দেখতে দেখতে চামিরা ও সান্দাকান ২টি করে উইকেট শিকার করে ফেলেন। তাতে নাসির হোসেন, মাশরাফি বিন মর্তুজা ও রুবেল হোসেন ৩ রানের মধ্যেই সাজঘরে ফেরেন। শেষ চার উইকেট ৪ রানের মধ্যে পড়ে। বাংলাদেশ তাই ৮২ রানের বেশি করতেও পারেনি। ২০১৪ সালের পর আবার এক শ’ রানের নিচে অলআউট হয় বাংলাদেশ। এত কম রান করে কী আর জেতা যায়? অবিশ্বাস্য কিছু না ঘটলে সম্ভবও না। সেই অবিশ্বাস্য ঘটনা ঘটেওনি। শ্রীলঙ্কার একটি উইকেটও শিকার করা যায়নি। আরাম আয়েশেই জয় পেয়েছে শ্রীলঙ্কা। বোনাস পয়েন্ট নিয়ে জিতেছে। যে দলটির ফাইনালে খেলাই ছিল শঙ্কার মধ্যে। সেই দলটি এত বড় জয় তুলে নিল। দেশের মাটিতে যে বাংলাদেশ দলটি অপ্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেছে, সেই দলটিকে কিনা শ্রীলঙ্কা দুমড়ে মুছড়ে দিল। লজ্জা দিয়ে জিতল।

পয়েন্ট তালিকা

দল ম্যাচ জয় হার পয়েন্ট রানরেট

বাংলাদেশ ১৫ ১.১১৪

শ্রীলঙ্কা ০.১৪৬

জিম্বাবুইয়ে -১.০৮৭



No comments:

Post a Comment

Post Bottom Ad

Responsive Ads Here