পেন্টাগনের নয়া আফগান নীতি - Chuadanga News | চুয়াডাঙ্গা নিউজ | ২৪ ঘন্টাই সংবাদ

Sidebar Ads

test banner

Breaking

Home Top Ad

Responsive Ads Here

Post Top Ad

Responsive Ads Here

Wednesday, January 31, 2018

পেন্টাগনের নয়া আফগান নীতি

মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগন আফগানিস্তান সম্পর্কিত নীতি পরিবর্তন করতে যাচ্ছে। এই নীতি অনুসারে দেশটির কতটুকু অংশ আফগান সরকারের নিয়ন্ত্রণে আর কতটুকু তালেবানের নিয়ন্ত্রণে তা প্রকাশ করা হবে না। ১৬ বছর আফগান যুদ্ধ চলাকালে যুক্তরাষ্ট্র নিয়মিত এই তথ্য প্রকাশ করে আসছে। এএফপি স্পেশাল ইনস্পেক্টর জেনারেল ফর আফগানিস্তান রিকন্সট্রাকশনের (এসআইজিএআর) দফতর মঙ্গলবার জানিয়েছে, আফগানিস্তানে তালেবান নিয়ন্ত্রিত অংশের তথ্য প্রকাশ না করার জন্য পেন্টাগনকে বলা হয়েছে। এর মধ্যে আফগানিস্তানের কয়টি জেলা কার নিয়ন্ত্রণে এবং এই জেলাগুলোর লোকসংখ্যা কত সে তথ্যগুলো অন্তর্ভুক্ত ছিল। তালেবানের সঙ্গে আফগান নিরাপত্তা বাহিনীর সক্ষমতার ব্যবধান তুলে ধরার জন্য পেন্টাগন সময় সময় এসব তথ্য প্রকাশ করত। স্পেশাল ইন্সপেক্টর জেনারেল ফর আফগানিস্তান রিকন্সট্রাকশন জন সপকো তাদের সর্বশেষ ত্রৈমাসিক রিপোর্টে বলেছেন, ‘আফগানিস্তান সম্পর্কিত এসব তথ্য প্রকাশ নানা কারণে সমস্যা সৃষ্টি করে থাকে। তাই মার্কিন করদাতাদের উদ্বেগ না বাড়ানোর জন্য এসব গোপন তথ্য আর প্রকাশ না করার জন্য পেন্টাগনকে বলা হয়েছে। গত বছর দেশটিতে বিভিন্ন হামলায় প্রচুর সংখ্যক নিরাপত্তাকর্মী নিহত হওয়ার পর সেখানে এই তথ্য প্রকাশ না করার জন্য কাবুল সরকার ওয়াশিংটনের কাছে অনুরোধ করেছিল। এসআইজিএআর জানিয়েছে, পেন্টাগন ২০০৯ সালের পর প্রথমবারের মতো আফগান নিরাপত্তা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা ও তালেবান নিয়ন্ত্রণাধীন নিরাপত্তা এলাকার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আফগানিস্তানে মার্র্কিন নেতৃত্বাধীন ন্যাটো বাহিনীর কমান্ডার জেনারেল জন নিকলসন বলেছেন, বর্তমানে দেশটির দুই-তৃতীয়াংশের কম ভূখ-ের ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। আগামী দুবছরের মধ্যে ৮০ শতাংশ জায়গা কাবুল সরকারের নিয়ন্ত্রণের মধ্যে চলে আসবে। তবে এই লক্ষ্য পূরণ হচ্ছে কি না তা নজরদারির জন্য এ সম্পর্কিত তথ্যগুলো প্রকাশ করা প্রয়োজন। এসআইজিএআর এই সম্পর্কিত প্রতিবেদন প্রকাশ শুরু করার পর থেকে সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকার পরিমাণ কমেছে। অন্যদিকে বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকার পরিমাণ বেড়েছে বলে সপকো জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এরচেয়েও উদ্বেগের বিষয় হলো এ সম্পর্কে তথ্য প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকলে পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যেতে পারে। তালেবান ও ইসলামিক স্টেটের মতো জঙ্গী গ্রুপগুলো গত কয়েক মাসে আফগান নিরাপত্তা বাহিনী ও পুলিশের ওপর হামলা বাড়িয়েছে। আফগান এ বাহিনীগুলোর অবস্থা বর্তমানে বেশ শোচনীয়। শনিবার তালেবান জঙ্গীদের আত্মঘাতী গাড়ি বোমা হামলায় রাজধানী কাবুলের ব্যস্ততম জায়গায় অন্তত ১০৩ ব্যক্তি নিহত হয়েছে। বিস্ফোরক বোঝাই এ্যাম্বুলেন্স নিয়ে তারা ওই হামলা চালায়। এই ঘটনায় আহত হয়েছে ২৩৫ জন। হতাহতের বেশিরভাগই বেসামরিক লোকজন। ওই এলাকায় বিগত অনেক বছরের মধ্যে এমন হামলার ঘটনা আর ঘটেনি। সোমবার কাবুলের একটি সেনাঘাঁটিতে বন্দুকধারীদের আত্মঘাতী হামলায় অন্তত ১১ জন নিহত ও ১৬ জন আহত হয়। ২১ জানুয়ারি কাবুলের হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে অতর্কিত জঙ্গী হামলায় ২২ জন নিহত হয়। যুক্তরাষ্ট্রে ৯/১১ হামলার পর দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ তালেবান উৎখাতে আফগানিস্তানে যুদ্ধ শুরু করেন। ২০১৪ সালে ওই যুদ্ধ শেষ হলেও যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনী এখনও সেখানে রয়ে গেছে। তারা আফগান সেনাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে তৈরি করার কাজে নিয়োজিত রয়েছে। গত বছর জানুয়ারিতে ক্ষমতা গ্রহণের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশটিতে সৈন্য সংখ্যা সাড়ে ৮ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১৪ হাজারে উন্নীত করেন।

No comments:

Post a Comment

Post Bottom Ad

Responsive Ads Here