উত্তরাঞ্চলে সার সরবরাহ বন্ধের আশঙ্কা - Chuadanga News | চুয়াডাঙ্গা নিউজ | ২৪ ঘন্টাই সংবাদ

Sidebar Ads

test banner

Breaking

Home Top Ad

Responsive Ads Here

Post Top Ad

Responsive Ads Here

Sunday, January 21, 2018

উত্তরাঞ্চলে সার সরবরাহ বন্ধের আশঙ্কা

যমুনা নদীতে নাব্যতা সংকটের কারণে বাঘাবাড়ী বন্দরের সঙ্গে নৌ-যোগাযোগ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। গত সপ্তাহ থেকে জ্বালানি তেল, রাসায়নিক সারসহ অন্যান্য পণ্যবাহী জাহাজ বাঘাবাড়ী বন্দরে ভিড়তে পারছে না। বাঘাবাড়ী বন্দরের ৩০ কিলোমিটার ভাটিতে নগরবাড়ীর উজানে ৪৯ লাখ লিটার জ্বালানি তেল ও ৩৫ হাজার বস্ত্মা রাসায়নিক সারভর্তি আটটি কার্গো জাহাজ যমুনা নদীতে আটকা পড়েছে। চিটাগাং থেকে জ্বালানি তেল ও রাসায়নি সার নিয়ে জাহাজগুলো বাঘাবাড়ী বন্দরে যাচ্ছিল। বাঘাবাড়ী-আরিচা নৌরম্নটে নগরবাড়ীর উজানে নাব্যতা সংকট মারাত্মক আকার ধারণ করায় জাহাজগুলো বাঘাবাড়ী নৌ-বন্দরে পৌঁছাতে পারছে না। আবার বন্দর থেকে ছেড়ে যাওয়া জাহাজগুলো গন্ত্মব্যে পৌঁছাতে পারছে না। জানা যায়, বাঘাবাড়ী অয়েল ডিপোর পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা কোম্পানির বিপণন কেন্দ্রে প্রায় ৫ কোটি ৮০ লাখ লিটার জ্বালানি তেল আপদকালীন মজুদ আছে। বাঘাবাড়ী থেকে উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলায় সেচ মওসুমে প্রতিদিন ৩৬ লাখ লিটার জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হয়। নাব্যতা সংকটে গত শনিবার থেকে জ্বালানি তেলসহ অন্যান্য পণ্যবাহী জাহাজ বাঘাবাড়ী বন্দরে পৌঁছাতে পারছে না। ফলে আপদকালীন মজুদ থেকে জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। ওই পরিমাণ মজুদ দিয়ে মাত্র ১৬ দিনের জ্বালানি তেলের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব। নাব্যতা সংকট দ্রম্নত নিরসন না হলে এ অঞ্চলে সেচ ও সারনির্ভর বোরো আবাদ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে বলে কৃষি বিভাগ সংশিস্নষ্টরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। সরেজমিন জানা যায়, জ্বালানি তেল, রাসায়নিক সার ও পণ্যবাহী কার্গো চলাচলের জন্য ১০ থেকে ১১ ফুট গভীরতা প্রয়োজন। বাঘাবাড়ী বন্দরের ৩০ কিলোমিটার ভাটিতে নগরবাড়ীর উজানে আধা কিলোমিটার এলাকায় পানির গভীরতা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৬ থেকে ৭ ফুট। গত শনিবার থেকে নগবাড়ীর উজানে ৩৫ হাজার বস্ত্মা টিএসপি, এমওপি, ডিওপি ও ইউরিয়া সার ও ৪৯ লাখ লিটার জ্বালানি তেল বোঝাই এমভি সাদিয়, এম ভি অনিক, এম ভি সিলিং বিজয়, এম ভি আছরসহ ১২টি জাহাজ যমুনা নদীতে আটকা পড়েছে। আটকা পড়া জাহাজের সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। নভেম্বর মাসে ১০ লাখ লিটার জ্বালানি তেল নিয়ে বাঘাবাড়ী বন্দরে এসেছে। ডিসেম্বরে কমে দাঁড়িয়েছিল ৭ লাখ লিটারে। এখন জাহাজ চলাচল একেবারেই বন্ধ হয়ে গেছে। এই বন্দরে পত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কর্মরত পাঁচ হাজার শ্রমিক পরিবারে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। বাঘাবাড়ী ট্রানজিট বাফার গুদাম সূত্রে জানা যায়, উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলায় ১৪টি বাফার গুদামে রাসায়নিক সার চাহিদার ৯০ ভাগ বাঘাবাড়ী বন্দর থেকে যোগান দেয়া হয়। এখান থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার বস্ত্মা রাসায়নিক সার সড়ক পথে বাফার গুদামগুলোতে সরবরাহ করা হয়। যমুনা নদীর নাব্যতা সংকটে বাফার গুদামগুলোতে আপদকালীন সারের মজুদ গড়ে তোলার কাজ চরমভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। বিসিআইসির বগুড়া আঞ্চলিক অফিসের একটি সূত্র জানান, ইরি-বোরো আবাদ মওসুমে উত্তরাঞ্চলে ১২ লাখ টন রাসায়নিক সারের প্রয়োজন। ১৪টি বাফার গুদামে আপদকালীন মজুদ আছে দুই লাখ ৮০ হাজার টন। নয় লাখ টন সার বিভিন্ন পথে আমদানি করা হচ্ছে। তবে প্রয়োজনের বেশির ভাগ সার বাঘাবাড়ী বন্দর দিয়ে আমদানি করা হয়। যমুনা নৌরম্নটে নাব্যতা সংকট সৃষ্টি হওয়ায় আপদকালীন সার মজুদের কাজ বিঘ্নিত হচ্ছে। বাঘাবাড়ী বন্দর সূত্রে জানা যায়, দৌলতদিয়া-বাঘাবাড়ী নৌপথে উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলায় জ্বালানি তেল, রাসায়নিক সারসহ অন্যান্য মালামাল পরিবহনের একটি জাতীয় গুরম্নত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর মাধ্যম। এ নৌপথে জ্বালানি তেলবাহী ট্যাংকার, রাসায়নিক সার ও বিভিন্ন পণ্যবাহী কার্গো জাহাজ চলাচল করে। বাঘাবাড়ী বন্দর থেকে উত্তরাঞ্চলে চাহিদার ৯০ ভাগ জ্বলানি তেল ও রাসায়নিক সার সরবরাহ করা হয়। আবার উত্তরাঞ্চল থেকে বাঘাবাড়ী বন্দরের মাধ্যমে চাল ও গমসহ অন্যান্য পণ্যসামগ্রী রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হয়। এ নৌপথের ১০টি পয়েন্টে নাব্যতা সংকটে মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। সময়মতো বিআইডাবিউটিএ ড্রেজিং না করায় নদীতে নাব্য না থাকায় জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। বিপিসির বাঘাবাড়ী রিভারাইন অয়েল ডিপোর যমুনা কোম্পানির ডেপুটি ম্যানেজার এ কে এম জাহিদ সরোয়ার, পদ্মার ম্যানেজার মো. আনোয়ার হোসেন, এবং মেঘনার ম্যানেজার মো. জালাল উদ্দিন জানান, বাঘাবাড়ীতে পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা তিনটি তেল কোম্পানির ডিপোতে ৫ কোটি ৮০ লাখ লিটার ডিজেল মজুদ আছে। আরও প্রায় ৭৪ লাখ লিটার ডিজেল ভর্তি ১২টি জাহাজ চিটাগাং থেকে বাঘাবাড়ী বন্দরের বন্দরের উদ্দেশে ছেড়ে এসেছে। নগরবাড়ীর উজানে ৪৯ লাখ লিটার জ্বালানি তেলবাহী ৭টি জাহাজ যমুনা নদীতে আটকা পড়েছে। নাব্যতা সংকটে জাহাজগুলো বন্দরে আসতে পারছে না। সেচ মওসুমে প্রতিদিন বাঘাবাড়ী থেকে ৩৬ লাখ লিটার জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হয়। বর্তমানে আপদকালীন মজুদ থেকে জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে আপদকালীন মজুদ ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। নৌ চ্যানেল সচল হলে এ সমস্যা দ্রম্নত কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে বলে তারা জানান।

No comments:

Post a Comment

Post Bottom Ad

Responsive Ads Here