শীতকালীন ডায়রিয়া - Chuadanga News | চুয়াডাঙ্গা নিউজ | ২৪ ঘন্টাই সংবাদ

Sidebar Ads

test banner

Breaking

Home Top Ad

Responsive Ads Here

Post Top Ad

Responsive Ads Here

Friday, January 19, 2018

শীতকালীন ডায়রিয়া

চারদিকে শীতের আগমনী বার্তা, এই সময় নানাবিধ অসুখের প্রকোপ দেখা যায়। এর মধ্যে অন্যতম সর্দি-কাশি, ডায়রিয়া। শিশুদের শীতকালীন ডায়রিয়ার একটা বড় অংশ রোটা ভাইরাস দিয়ে হয়ে থাকে। ডায়রিয়া হলে শরীর থেকে লবণ ও পানি বের হয়ে যায়, শরীরে পানি শূন্যতা দেখা যায়, তখন পানির ঘাটতি দূর করতে খাবার স্যালাইন প্রয়োজন। ডায়রিয়া হলে সঙ্গে সঙ্গে স্যালাইন খাওয়ানো শুরু করতে হবে। সঠিক নিয়মে স্যালাইন পর্যাপ্ত পরিমাণে খাবার স্যালাইন শিশুকে ডায়রিয়াজনিত মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচাতে পারে। আবার সঠিক নিয়মে স্যালাইন বানাতে না পারলে শিশুর শরীরে সোডিয়াম লবণের পরিমাণ বেড়ে গিয়ে বা কমে গিয়ে তা শিশুর মৃত্যুর কারণ হতে পারে। অনেক সময় লেখাপড়া না জানার জন্য কিংবা অবহেলার কারণে ভুলভাবে স্যালাইন বানিয়ে বাবা-মা তাদের অতি আদরের সন্তানকে মৃত্যুমুখে ঠেলে দেন। আমরা সাধারণত প্যাকেট স্যালাইন খেয়ে থাকি। প্যাকেটের গায়ে স্যালাইন তৈরির নিয়মাবলি লেখা থাকে। ৫০০ মিলি ফুটান ঠাণ্ডা পানিতে পুরো এক প্যাকেট স্যালাইন মিশিয়ে খাবার স্যালাইন তৈরি করতে হয়। এক্ষেত্রে পানি পরিমাণের চেয়ে কম হলে বিভিন্ন সমস্যার উদ্ভব হয়। অনেকে ভাবেন বাচ্চাদের স্যালাইন অল্প লাগবে, তাই ফিডারে অথবা অল্প পানিতে মিশিয়ে বানান, এতে করে স্যালাইনে সোডিয়াম লবণের ঘনত্ব বেড়ে যায়। বাচ্চাকে এ স্যালাইন খাওয়ালে পিপাসা বেড়ে যায়, বাচ্চা আরও বেশি স্যালাইন খেতে থাকে, বাচ্চার রক্তে সোডিয়াম লবণের মাত্রা বেড়ে যায়, যা কিনা রক্তে সোডিয়ামের স্বাভাবিক মাত্রা ১৩০-১৪০ মিলি মোল/লিটার ছাড়িয়ে পৌঁছে যায় বিপজ্জনক মাত্রায়, এমনকি ১৭০/১৮০ মিলি মোল/অথবা ২০০ মিলি মোল/লিটার। এই অবস্থাকে বলা হয় হাইপারন্যাটরেমিয়া। এতে বাচ্চার ক্ষুধামন্দা, বমি, মানসিক অস্থিরতা দেখা দেয়, বাচ্চা নিস্তেজ হয়ে পড়ে এমনকি খিঁচুনিও দেখা দিতে পারে। পরিণতিতে অনেক শিশুর মৃত্যু হতে পারে কিংবা দীর্ঘমেয়াদী শারীরিক এবং মানসিক সমস্যা তৈরি হয়, যা আমাদের কখনই কাম্য নয়। তাই ডায়রিয়া হলে শিশু কে স্যালাইন খাওয়ানো শুরু করুন। যদি অতিরিক্ত বমি হয়, প্রসাবের পরিমাণ কমে যায়, পায়খানায় রক্ত দেখা যায়, শিশুর খিঁচুনি হয় বা নিস্তেজ হয়ে পড়ে তাহলে জরুরী ভিত্তিতে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন অথবা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যান। মূল তথ্য : শিশুকে ডায়রিয়ায় স্যালাইন খাওয়াতে হবে, পাশাপাশি অন্য খাবার দিতে হবে। স্যালাইন সঠিক নিয়মে বানাতে হবে। *প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। আসুন সবাই সচেতন হই, ডায়রিয়ায় শিশুমৃত্যু প্রতিরোধ করি।

No comments:

Post a Comment

Post Bottom Ad

Responsive Ads Here