যে সকল কারণে রোজা বা সাওম ভঙ্গ হয় - Chuadanga News | চুয়াডাঙ্গা নিউজ | ২৪ ঘন্টাই সংবাদ

Sidebar Ads

test banner

Breaking

Home Top Ad

Responsive Ads Here

Post Top Ad

Responsive Ads Here

Tuesday, January 30, 2018

যে সকল কারণে রোজা বা সাওম ভঙ্গ হয়

পবিত্র রমজান মাসে প্রায় সকল মুসলিমই মহান আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টির জন্যে রোজা বা সাওম পালন করে থাকে। সুবহি সাদিক থেকে সূর্য অস্ত যাওয়া পর্যন্ত মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্যে সকল প্রকার পানাহার ও ইন্দ্রিয় তৃপ্তি থেকে বিরত থাকার নামই হচ্ছে সাওম বা রোজা। এ লেখায় রোজা ভঙ্গের কারণ সমূহ তুলে ধরা হলোঃ ইচ্ছাকৃতভাবে পানাহার করলে ও ধূমপান করলে: রোজার রাখার অর্থ সুবহে সাদিক থেকে সুর্যাস্ত পর্যন্ত সকল প্রকার পানাহারই নিষিদ্ধ। কিন্তু কেউ যদি রোজা থাকা অবস্থায় কোন প্রকার পানাহার বা ধূমপান করে তাহলে নিঃসন্দেহে তা রোজা ভঙ্গের একটি কারণ হবে। ডুবে ডুবে জল খাওয়ার মতো করে যদি কেউ সবার অজান্তে লুকিয়ে পানাহার করে সে ক্ষেত্রেও রোজা ভেঙ্গে যাবে। কারণ আর কেউ না দেখুক আল্লাহ তাআলা ঠিকই দেখছেন। তবে কেউ যদি অনিচ্ছাকৃত ভাবে পানি খেয়ে ফেলে বা অন্য কোন খাবার খেয়ে ফেলে তাহলে রোজা ভাঙ্গবে না। খাওয়ার সময় যদি মনে পরে যে ব্যক্তি রোজা ছিলো তাহলে মুখের খাবার ফেলে দিতে হবে। এছাড়া যতটুকু অজান্তে খেয়ে ফেলেছে ততটুকুর জন্যে রোজা ভাঙ্গবে না। এ বিষয়ে নবী করিম (সা.) বলেছেন – ‘যদি কেউ ভুলক্রমে পানাহার করে তবে সে যেন তার সিয়াম পূর্ণ করে নেয়। কেননা আল্লাহ তায়ালাই তাকে এ পানাহার করিয়েছেন।’ (অর্থাৎ এতে তার রোযা ভাঙ্গেনি) – (বোখারিও মুসলিম শরিফ) অনেকেই মনে করতে পারেন ধূমপান তো পানাহারের মধ্যে পড়ে না। তাছাড়া ধূমপান করলে পেট ভরারও কিছু নেই তাই ধূমপান করা যাবে। এটা ভুল, ধূমপান করলেও রোজা সম্পুর্ণরূপে ভেঙ্গে যাবে। ধূমপানের আসক্তি বা নেশা ছেড়ে দেওয়ার জন্যে উপযুক্ত সময় হচ্ছে রমজান মাস। দীর্ঘ একমাস রোজা রাখার কারণে সারাদিনই মানুষ সিগারেট ও অন্যান্য নেশাজাতীয় দ্রব্য থেকে দূরে থাকে। যা এ ধরনের আসক্তি দূর করতে সাহায্য করে। ওযু করার সময় গড়গড়া করা যাবে না। আর নাকে পানি দেওয়ার সময় সাবধান থাকতে হবে যেন পানি ভেতরে চলে না যায়। ইচ্ছাকৃত ভাবে পানি ঢোকালে রোজা ভেঙ্গে যাবে, অনিচ্ছাকৃত হলে সেটা আলাদা। স্ত্রীর সঙ্গে মিলিত হলে: রোজা রাখা মানে শুধু পানাহার থেকে না, ইন্দ্রীয় তৃপ্তি থেকেও নিজেকে বিরত রাখা। সেই অর্থে রোজা থাকা অবস্থায় যদি কেউ সহবাস করে তাহলে রোজা ভেঙ্গে যাবে। এক্ষেত্রে তাকে কাজা ও কাফফারা দুটোই করতে হবে। কাফফারা আদায়ের নিয়ম হচ্ছে – কোনো মুসলিম দাস বা দাসী মুক্ত করে দেয়া। বর্তমানে যেহেতু দাস প্রথা নেই। ইসলাম ধাপে ধাপে দাস প্রথাকে উচ্ছেদ করেছে। তাই দাস-দাসী মুক্ত করে কাফফারা আদায় করার সুযোগ নেই। এক্ষেত্রে এক একটি রোজার পরিবর্তে দু মাস বিরতিহীন রোজা রাখতে হবে। বিরতিহীন রোজা পালন করতে গিয়ে সঙ্গত কারণ ছাড়া যদি বিরতি দেয়া হয়, তবে আবার নতুন করে দু মাস রোজা রাখতে হবে। যদি বিরতিহীন ভাবে দু মাস সিয়াম পালনের সামর্থ্য না রাখে তবে এক একটি রোজার পরিবর্তে ষাট জন অভাবী মানুষকে খাদ্য দান করতে হবে। প্রত্যেকের খাদ্য হবে এক ফিতরার সম পরিমাণ। ইচ্ছাকৃতভাবে বমি করলে: ইচ্ছাকৃতভাবে বমি করলে রোজা ভেঙ্গে যাবে। তবে যদি অনিচ্ছাকৃতভাবে বমি হয়ে থাকে তাহলে তাতে কোন সমস্যা নেই। অনিচ্ছাকৃত বমি হলে, বমি করার পর সমস্ত মুখ ভালো করে পানি দিয়ে কুলি করে ধুয়ে নিতে হবে যেন মুখের কোথাও বিন্দুমাত্র খাবারের কণা জমে না থাকে। এ সম্পর্কে নবী করিম (সা.) বলেন – ‘যে ব্যক্তি অনিচ্ছাকৃতভাবে বমি করল তাকে উক্ত সিয়াম কাযা করতে হবে না। কিন্তু যে স্বেচ্ছায় বমি করল তাকে উক্ত সিয়াম অবশ্যই কাযা করতে হবে (আবূ দাউদ)। হস্তমৈথুন করলে: হস্তমৈথুন বা অন্য কোনভাবে যদি কেউ ইচ্ছাকৃত ভাবে বীর্যপাত ঘটায় তাহলে তা রোজা ভঙ্গের কারণ হবে। এক্ষেত্রে যদি কেউ কামভাবে স্ত্রীকে স্পর্শ করার মাধ্যমেও বীর্যপাত ঘটায় তাহলেও রোজা ভেঙ্গে যাবে। তবে স্বপ্নদোষ হলে রোজা ভাঙ্গবে না। তবে স্বপ্নদোষ হয়েছে এমনটা বোঝামাত্রই ফরজ গোসল করে নিজেকে পবিত্র করে নিতে হবে।ঋতুস্রাব হলে: রোজা রাখা অবস্থায় যদি মহিলাদের মাসিকের রক্ত দেখা দেয় তাহলে রোজা ভেঙে যাবে। এমনিভাবে প্রসবজনিত রক্ত প্রবাহিত হতে থাকলে রোজা নষ্ট হয়ে যায়। এক্ষেত্রে যে কয়টি রোজা নষ্ট হবে সে কয়টি পরে কাজা করে নিতে হবে। ইনজেকশন নিলে: ইনজেকশনের মাধ্যমে শরীরে জীবনী শক্তি বৃদ্ধি করার জন্যে কিংবা অন্য কোন কারণে শরীরে ঔষুধ প্রবেশ করানো হলে রোজা ভেঙ্গে যাবে। যদি অবস্থা এমন হয় যে ইনজেকশনের মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময়ে ঔষুধ নিতেই হবে নয়তো বড়সড় কোন সমস্যা হয়ে যাবে সে ক্ষেত্রে কথা ভিন্ন। এ ব্যাপারে একাধিক মতামত রয়েছে। ইনজেকশন যদি এমন হয় যে তাহলে শরীরের বল বৃদ্ধি করবে (যেমন গ্লুকোজ) তাহলে সে জাতীয় ইনজেকশন ব্যবহারে রোজা ভেঙ্গে যাবে। কারণ খাবার যেই কাজ করে এক্ষেত্রে অনেকটা একই কাজ করছে এটি। তবে শুধুমাত্র চিকিৎসার জন্যে যদি ইনজেকশন দেয়া হয় (যেমন ইনসুলিন, পেনিসিলিন) তাহলে রোজা ভাঙ্গবে না। আরও কিছু কারণঃ দাঁতে আটকে থাকা ছোলা পরিমাণ বা তার চেয়ে বড় খাদ্য-দ্রব্য গিলে ফেললে, বমি মুখে আসার পর গিলে ফেললে, রাত্রি আছে মনে করে পানাহার করলো কিন্তু দেখা গেলো সুবহে সাদিক হয়ে গিয়েছে, মুখে পান রেখে ঘুমিয়ে পড়ে সুবহে সাদিকের পর নিদ্রা হতে জাগরিত হলে। এসব ক্ষেত্রে রোজার কাজা করতে হবে। সুরমা ব্যবহার, চোখে বা কানে ঔষধ ব্যবহার করলে সিয়াম নষ্ট হয় না যদিও তার স্বাদ অনুভূত হয়। কোন কিছুর স্বাদ অনুভূত হলে সিয়াম ভঙ্গ হয় না। সিয়াম ভঙ্গ হওয়ার সম্পর্ক হল পানাহারের সাথে। কোন কিছুর স্বাদ পরীক্ষা করার কারণে সিয়াম ভঙ্গ হয় না, যদি না তা গিলে ফেলে। কোন কিছুর ঘ্রাণ নিলে সিয়াম ভঙ্গ হয় না। তবে ধুম জাতীয় ঘ্রাণ সিয়াম অবস্থায় গ্রহণ করবে না। যেমন আগরবাতি বা চন্দন কাঠের ধুয়া কিংবা ধুপ গ্রহণ করবে না। গর্ভবতী নারীর সন্তান বা নিজের প্রাণ নাশের আশঙ্কা হলে রোজা না রাখা বা ভঙ্গ করা বৈধ। তবে পরে কাজা আদায় করতে হবে। যে সব নারী তার সন্তানকে দুধ পান করান, রোজা রাখার ফলে যদি দুধ না আসে এবং এতে সন্তানের অসুবিধা হয় তবে রোজা না রাখার অনুমতি আছে। কিন্তু পরে কাজা আদায় করতে হবে। মুসাফির অবস্থায় রোযা না রাখার অনুমতি আছে। রাব্বুল আলামিন আমাদের সবাইকে সঠিকভাবে রোজা পালনের তাওফিক দান করুন – আমিন।

No comments:

Post a Comment

Post Bottom Ad

Responsive Ads Here