মিরপুরে সিরিজ নির্ধারণী লড়াইয়ের অপেক্ষা - Chuadanga News | চুয়াডাঙ্গা নিউজ | ২৪ ঘন্টাই সংবাদ

Sidebar Ads

test banner

Breaking

Home Top Ad

Responsive Ads Here

Post Top Ad

Responsive Ads Here

Tuesday, February 6, 2018

মিরপুরে সিরিজ নির্ধারণী লড়াইয়ের অপেক্ষা

ঠিক চার বছর আগে সর্বশেষ বাংলাদেশ সফরে এসেছিল শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট দল। সেবার দুই টেস্টের সিরিজ ১-০ ব্যবধানে হিতে গিয়েছিল তারা। চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট দারুণ খেলে ড্র করতে সক্ষম হয়েছিল। দ্বিতীয় ইনিংসে মুমিনুল হক সৌরভ অপরাজিত সেঞ্চুরি হাঁকান বলেই সেটা সম্ভব হয়েছিল। আবার সেই সাগরিকাতেই বাংলাদেশের মাটিতে বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা মুখোমুখি হলো এবং আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে এবারও মুমিনুলের শতকেই স্মরণীয় একটি ড্র পেয়েছে বাংলাদেশ দল। ড্রয়ে শেষ হয়েছিল, এবার ড্রয়ে শুরু। লড়াই এখন মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় টেস্টে সিরিজ নির্ধারণের। চার বছর আগে এই মাঠে হওয়া সিরিজের প্রথম টেস্টে ইনিংস ও ২৪৮ রানের বড় ব্যবধানে হেরে গিয়েছিল স্বাগতিক দল। সেখানে এবার লঙ্কানদের বিপক্ষে সিরিজের ফয়সালা হওয়ার লড়াই। আগামী বৃহস্পতিবার শুরু হবে দ্বিতীয় টেস্ট। চট্টগ্রাম টেস্ট রবিবার শেষ হয়েছে, সোমবার সকালেই ঢাকা ফিরেছে উভয় দল। তবে এদিন অনুশীলন না করে বিশ্রাম নিয়েছে দু’দলের ক্রিকেটাররা। চট্টগ্রাম টেস্টের শেষদিন জমে উঠেছিল। চতুর্থ দিনশেষে বাংলাদেশ দল ছিল চাপের মুখে। দ্বিতীয় ইনিংসে ৮১ রানেই হারিয়ে ফেলেছিল ৩ উইকেট। তখনও ১১৯ রানে পিছিয়ে থাকায় আরেকটি পরাজয়ের শঙ্কা উঁকি দিচ্ছিল। কিন্তু মুমিনুল হকের টানা দ্বিতীয় ইনিংসে করা সেঞ্চুরি এবং লিটন কুমার দাসের ৯৪ রানের অবিস্মরণীয় ইনিংসে দারুণ এক ড্র করতে সক্ষম হয় বাংলাদেশ। সেই দুর্দান্ত ড্রয়ের কথা মনে করিয়ে দিয়েছে ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে এই সাগরিকার মাঠেই করা ড্র ম্যাচটিকে। সেবার প্রথম টেস্টে লঙ্কানদের কাছে অসহায় আত্মসমর্পণ করেছিল বাংলাদেশ দল, ইনিংস ব্যবধানে পরাজয়ের লজ্জা হয়েছিল সঙ্গী। এরপরও চট্টগ্রামের সেই ড্র ছিল মুমিনুলের বীরোচিত সেঞ্চুরির সুবাদে। ৪৬৭ রানের জয়েল লক্ষ্যে নেমে ৩ উইকেটে ২৭১ রান তোলে বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংসে। ১৬৭ বলে ১০০ রান করে অপরাজিত থাকেন মুমিনুল। এবার চট্টগ্রাম টেস্টে যেন সেই স্মৃতিটাকেই ফিরিয়ে আনলেন এ টপঅর্ডার ব্যাটসম্যান। প্রথম ইনিংসে ১৭৬ রান করার পর দ্বিতীয় ইনিংসেও করলেন ১০৫ রান। উভয় ইনিংসে সেঞ্চুরি করার প্রথম রেকর্ড এটি বাংলাদেশের পক্ষে। দুই ইনিংসে ২৮১ রান করে এক টেস্টে সর্বাধিক রান করার দেশীয় রেকর্ডও গড়েছেন তিনি। এই টেস্টে মুমিনুল বাংলাদেশের পক্ষে দ্রুততম ২ হাজার রানও পূর্ণ করেন ক্যারিয়ারে। অবিস্মরণীয় সেই জয়ে এখন বেশ উজ্জীবিত দল বাংলাদেশ। তবে মিরপুর টেস্টে কিছুটা পরিবর্তন থাকবে একাদশে সেটা নিশ্চিত। কারণ চট্টগ্রামে অভিষেক হওয়া বাঁহাতি স্পিনার সানজামুল ইসলাম বাদ পড়েছেন দ্বিতীয় টেস্টে। এ কারণে একাদশে ফেরার প্রায় নিশ্চিত হয়েই গেছে অভিজ্ঞ বাঁহাতি আব্দুর রাজ্জাকের। এছাড়া গত টেস্টের দলে না থাকলেও ঢাকা টেস্টের স্কোয়াডে ফিরেছেন সাব্বির রহমান। না খেলেও বাদ পড়েছেন পেসার রুবেল হোসেন। এ কারণে মিরপুর টেস্টে নিশ্চিতভাবেই ভিন্ন স্কোয়াড নিয়ে নামতে যাচ্ছে বাংলাদেশ দল। আর মিরপুরের উইকেট বৈচিত্র্যময়তায় ভরপুর। যেকোন সময় ভাবনাতীত আচরণ দেখানোর অতীত অনেক দৃষ্টান্তই আছে এখানে। তবে সেই বৈচিত্র্যময়তার ফাঁদে বেশিরভাগ সময় বলি হয়েছে স্বাগতিক বাংলাদেশ দলই। যেমনটা এবার ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালেও দেখা গেছে। এই টেস্টের ফলাফলের ওপরই নির্ভর করবে সিরিজের ট্রফি কার ঘরে উঠবে সেটা। আবারও ড্র হয়ে গেলে সিরিজ নিষ্পত্তিহীনই থাকবে। চট্টগ্রাম টেস্টের উভয় ইনিংসে শতক হাঁকানোয় আইসিসি র‌্যাঙ্কিংয়ে মুমিনুল উঠে এসেছেন ২৭ নম্বরে। তিনি ১৫ ধাপ এগিয়েছেন। আর তামিম ইকবাল ২১, সাকিব আল হাসান ২২, মুশফিকুর রহীম ২৫ এবং অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ৬ ধাপ এগিয়ে ক্যারিয়ারসেরা ৪৮ নম্বর পজিশনে জায়গা করে নিয়েছেন। আর ৯৪ রানের দারুণ ইনিংস খেলে ৮১ নম্বরে লিটন কুমার দাস। র‌্যাঙ্কিংয়ে উন্নতি হয়েছে লঙ্কান ব্যাটসম্যানদেরও। কুসাল মেন্ডিস ২৩, ধনাঞ্জয়া ডি সিলভা ৩৮ এবং রোশেন সিলভা ১০৬ নম্বরে উঠে এসেছেন। মিরপুরেও সচরাচর স্পিনবান্ধব উইকেটই দেখা যায় টেস্টে। সেজন্য সুসংবাদ আছে মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাইজুল ইসলামের জন্য। দু’জনই ১ ধাপ করে এগিয়ে যথাক্রমে ৩৬ ও ৩৮ নম্বরে আছেন। আর মিরপুর বেশ পয়মন্ত ডানহাতি অফস্পিনার মিরাজের জন্য, এখানেই অভিষেক টেস্টে তিনি ধসিয়ে দিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়াকে। এখন শুধু আরেকটি লড়াইয়ে নামার অপেক্ষা। সোমবার বিশ্রাম নিয়ে আজ থেকেই সেজন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করবে দু’দল। দু’দিন অনুশীলন করার সুযোগ রয়েছে ক্রিকেটারদের।

No comments:

Post a Comment

Post Bottom Ad

Responsive Ads Here