৮ ফেব্রুয়ারি ঘিরে উত্তেজনা শঙ্কা - Chuadanga News | চুয়াডাঙ্গা নিউজ | ২৪ ঘন্টাই সংবাদ

Sidebar Ads

test banner

Breaking

Home Top Ad

Responsive Ads Here

Post Top Ad

Responsive Ads Here

Tuesday, February 6, 2018

৮ ফেব্রুয়ারি ঘিরে উত্তেজনা শঙ্কা

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলার রায় সামনে রেখে রাজনৈতিক অঙ্গন উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। সেই সঙ্গে রাজধানীসহ সারা দেশে জনমনেও দেখা দিয়েছে শঙ্কা। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার ওই রায় ঘোষণা হওয়ার কথা। প্রধান দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি একে ঘিরে প্রকাশ্যে কোনো কর্মসূচি ঘোষণা করেনি। তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উভয় দলেই আছে প্রস্তুতি। বিএনপির একটি সূত্রে জানা গেছে, রায় ঘোষণার দিন খালেদা জিয়ার আদালতে যাওয়ার সময় গুলশান থেকে বকশীবাজার পর্যন্ত পথের দুই ধারে নেতাকর্মীরা জমায়েত হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর বিএনপির জমায়েত থেকে ভাঙচুর, আগুন লাগানো বা অন্য কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কা থেকে প্রতিরোধের প্রস্তুতি নিচ্ছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী সংগঠনসহ সমর্থক বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন। যানবাহন ভাঙচুর বা আগুন সন্ত্রাস হলে আন্দোলনে নামবে পরিবহন শ্রমিকরা। নাশকতা এড়াতে ঢাকাকে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রাখারও প্রস্তুতি চলছে। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করতে আজ মঙ্গলবার ঢাকায় পরিবহন শ্রমিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন দেড় শতাধিক পরিবহন মালিক। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ ও র‌্যাব সূত্রে জানা গেছে, ৮ ফেব্রুয়ারির পর আরো তিন-চার দিনের পরিস্থিতি মাথায় রেখে নিরাপত্তার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। আগামীকাল বুধবার থেকে ঢাকার প্রবেশপথগুলোতে চেকপোস্ট বা তল্লাশি চৌকি বসানো হবে। তল্লাশির পর যানবাহন ঢাকার ভেতর ঢোকার অনুমতি দেওয়া হবে। এ ছাড়া পথেও বিভিন্ন স্থানে যানবাহন থামিয়ে তল্লাশি করা হবে। রাজধানীর আবাসিক হোটেলগুলোতে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। রায়ের দিন ঢাকার কোনো স্থানেই বিএনপির নেতাকর্মীসহ কাউকেই জড়ো হতে দেবে না পুলিশ। কেউ জানমালের ক্ষতি করার চেষ্টা করলেই পুলিশ ছররা গুলি চালাবে। এদিকে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় গ্রেপ্তার এড়াতে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন বিএনপি ও জামায়াত নেতারা। স্থানীয় বিএনপি নেতারা ফোনও বন্ধ রেখেছেন। আগুন সন্ত্রাস বা কোনো নাশকতা হলে তা ঠেকাতে কঠোর অবস্থানে থাকবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পাশাপাশি সন্দেহভাজন নাশকতাকারী ধরতে এরই মধ্যে অভিযানে নেমেছে তারা। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ছয় দিনে বিএনপির ছয় শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার বা আটক করা হয়েছে। নাশকতার আশঙ্কায় চট্টগ্রাম বিমানবন্দর সড়ক বুধ ও বৃহস্পতিবার বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি)। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকামুখী বাস চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে আজ রাত থেকে। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, বরিশাল, রংপুরসহ বিভিন্ন জেলা থেকেও আজ রাত থেকে সড়ক পরিবহন পরিচালনা করা হবে সীমিত আকারে। নাশকতা প্রতিরোধের কর্মকৌশল ঠিক করতে সরকারের নীতিনির্ধারকরা দফায় দফায় বৈঠক করছেন। গতকাল সোমবারও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইজিপিকে নিয়ে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া পুলিশ সদর দপ্তর ও ডিএমপি সদর দপ্তরে বৈঠক করছেন ঊর্ধ্বতন পুুলিশ কর্মকর্তারা। নাশকতার আশঙ্কা করছে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে তথ্য এসেছে, সড়ক ও রেলপথে হামলা চালানো হতে পারে। এমনকি রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতেও নাশকতার আশঙ্কা করা হচ্ছে। রায় ঘোষণার দিন বা আগের দিন অগ্নিসন্ত্রাসের আশঙ্কা করছে পরিবহন শ্রমিকরা। যানবাহন ও পরিবহন শ্রমিকদের নিরাপত্তার জন্য রাজধানীর সঙ্গে সারা দেশের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রাখা বা পরিবহন সীমিত রাখার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। আজ দুপুরে ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের যৌথ সভা হবে মতিঝিলে ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির কার্যালয়ে। সভায় ঢাকার বাস ও মিনিবাসের কমপক্ষে ১৫০ জন মালিক উপস্থিত থাকবেন। ঢাকার সায়েদাবাদ, মহাখালীসহ বিভিন্ন বাস টার্মিনালের মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিরা তাতে অংশ নেবেন। ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েত উল্লাহ গতকাল বিকেলে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের ওপর হামলা হলে আমরা কী করব? সতর্ক থাকব। তবে আর কী করা যায় তা চূড়ান্ত হবে মঙ্গলবারের বৈঠকে। ’ জানা গেছে, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় বর্ধিত সভা হয়েছে গত শুক্র ও শনিবার সেগুনবাগিচায়। তাতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রায় ৩৫০ পরিবহন শ্রমিক নেতা অংশ নেন। ওই ফেডারেশনের ২৩০টি পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন রয়েছে দেশজুড়ে। সভায় ৮ ফেব্রুয়ারির বিষয়ে শ্রমিক নেতারা হামলা হলে প্রতিরোধ ও আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করার পক্ষে মত দেন। ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘হামলা হলে আমরা প্রতিরোধ গড়ে তুলব। আমার গায়ের ওপর পড়লে আমি তো ধাক্কা দেবই। ’ তিনি জানান, ২০১৩ থেকে ২০১৫ সালে আগুন-সন্ত্রাসে তিন হাজার গাড়ি পোড়ানো হয়েছে। ৯২ জন পরিবহন শ্রমিক প্রাণ হারায় তাতে। আহত হয় আড়াই হাজার পরিবহন শ্রমিক। ১৮০ জন পরিবহন শ্রমিক সম্পূর্ণভাবে পঙ্গু হয়ে যায়। তিনি বলেন, ‘আমরা কোনো দলের নই। তবে রাজনৈতিক আক্রোশের শিকার হতে হয় সড়ক পরিবহনকেই। যেকোনো খারাপ পরিস্থিতি হলে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে ঢাকা। ’ ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ও র‌্যাব সূত্রে জানা গেছে, আগামীকাল থেকে ঢাকার প্রবেশপথগুলোতে নিরাপত্তা চৌকি বসাবে পুলিশ ও র‌্যাব। যানবাহন তল্লাশি করার পরই ঢাকায় ঢোকার অনুমতি দেওয়া হবে। এমনকি বিভিন্ন স্থান থেকে আসা যানবাহনগুলো যেকোনো স্থানে থামিয়ে তল্লাশি করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। রেলস্টেশন ও লঞ্চ টার্মিনালে সাদা পোশাকধারী পুলিশ সক্রিয় থাকবে। ট্রেন ও লঞ্চে ওৎ পেতে থাকবে গোয়েন্দারা। সন্দেহ হলেই যে কাউকে আটক করা হবে। ঢাকার আবাসিক হোটেলগুলোতে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। বোর্ডারদের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করার পর থানা পুলিশকে অবহিত করতে বলা হয়েছে। পুলিশ অনুমতি দিলে বোর্ডারদের রাখা যাবে হোটেলে। রায়কে কেন্দ্র করে সম্প্রতি পুলিশ সদর দপ্তর থেকে সব রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক ও পুলিশ সুপারদের কাছে একটি বিশেষ নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বিএনপি, জামায়াতসহ একটি চক্র নাশকতার চেষ্টা করবে। এই জন্য পুলিশকে সতর্ক থাকতে হবে। অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করতে দুষ্কৃতকারীরা ঢাকাসহ বিভিন্ন বড় শহরের দিকে আসতে পারে। তারা ফেসবুক বা অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াতে পারে। পুলিশ বা অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ওপর সশস্ত্র হামলা চালাতে পারে। নাশকতা করতে পারে। গণপরিবহনে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও রেলপথে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগও করতে পারে। জেলা, থানা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ সম্পাদকীয় পদের নেতাদের তালিকা করে দ্রুত আটক করতে হবে। এ ছাড়া জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের পলাতক নেতাদের খুঁজে বের করতে হবে। নাশকতাকারীদের প্রতিরোধ করতে হবে। পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (প্রশাসন) মোখলেসুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, নাশকতা চালালে কাউকে ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই। জানমালের রক্ষার জন্য যা যা করার দরকার তাই করবে পুলিশ। কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। নাশকতাকারীদের বিরুদ্ধে হার্ডলাইনে থাকবে পুলিশ। তবে অহেতুক কাউকে হয়রানি করা হবে না। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন চক্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার চালাচ্ছে। আতঙ্ক ও অপপ্রচার রোধ করতে এবং নিরাপত্তার ছক সাজাতে পুলিশের কর্তা-ব্যক্তিরা বৈঠক করছেন। গতকালও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়েছে। ওই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পুলিশ প্রধান অংশ নিয়েছেন। তা ছাড়া পুলিশ সদর দপ্তরেও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে বিশেষ বৈঠক করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান ও আইজিপি ড. জাবেদ পাটোয়ারী। পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি (গোপনীয়) মো. মনিরুজ্জামান কালের কণ্ঠকে বলেন, জানমাল রক্ষার্থে পুলিশ বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে বিভিন্ন স্থানে নিরাপত্তা বাড়ানো, চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি করা, থানাসহ পুলিশের সব স্থাপনায় নিরাপত্তা বাড়ানো, পুলিশের সব সিসি ক্যামেরা সচল রাখা, যেসব স্থানে আগে নাশকতার ঘটনা ঘটেছে, সেসব স্থান চিহ্নিত করা, গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। তিনি আরো বলেন, পুলিশের নিয়মিত অভিযান হচ্ছে। পুুলিশ সদর দপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘আমাদের কাছে তথ্য আছে, বিএনপি বড় ধরনের গোলযোগ করবে। দলের নেতাকর্মীরা ছদ্মবেশে আবাসিক হোটেলে উঠবে। মূলত এই কারণেই হোটেলগুলোতে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। ’ বিমানবন্দরের আশকোনায় হোটেল সিরাজের পরিচালক মন্তাজ উদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, পরিচয়পত্র ছাড়া কাউকে রুম ভাড়া দেওয়া হচ্ছে না। রাজনৈতিক নেতাদেরও ভাড়া দেওয়া হচ্ছে না। থানা-পুলিশকে বোর্ডারদের ব্যাপারে অবহিত করা হয়। বনানীর-কাকলীতে হোটেল পূর্ণিমার ব্যবস্থাপক আলমগীর হোসেন বলেন, ‘পরিচয়পত্র ছাড়া কাউকে ভাড়া দেওয়া হচ্ছে না। থানা-পুলিশ আমাদের কিছু দিকনির্দেশনা দিয়ে গেছে। বোর্ডারদের সব ধরনের তথ্য সংগ্রহ করে পুলিশকে জানানো হচ্ছে। মাঝেমধ্যে পুলিশ আসে। ’ তোপখানা রোডে হোটেল সম্রাটের এক কর্মকর্তা বলেন, তিন দিন আগে শাহবাগ থানার পুলিশ সদস্যরা এসে নির্দেশনা দিয়েছেন। বাড্ডার হোটেল বন্ধুর কর্মচারী রহিমউল্লাহ জানান, আইডি কার্ড ছাড়াও তাদের রাজনৈতিক কানেকশন আছে কি না তা দেখে বোর্ডারদের ভাড়া দেওয়া হচ্ছে। আওয়ামী লীগ বলছে, ৮ ফেব্রুয়ারি তাদের কোনো কর্মসূচি নেই। দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের গত রবিবার রাজধানীতে এক যুব সমাবেশে বলেন, ‘আমরা কারো সঙ্গে পাল্টাপাল্টিতে যাব না। আমাদের ঠাণ্ডা মাথায় পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হবে। আমাদের নেত্রী ৮ তারিখে কোনো কর্মসূচি দিতে বলেননি। আমাদের কোনো কর্মসূচি নেই। বিএনপি যদি বিশৃঙ্খলা করে, রাস্তা দখল করে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবেলা করবে। ’ বিএনপিপ্রধান খালেদা জিয়া গতকাল সড়কপথে সিলেটে যান। পথে তাঁকে শুভেচ্ছা জানাতে বিভিন্ন স্থানে দলের নেতাকর্মীরা জড়ো হলে তাদের বাধা দেওয়া এবং ধরপাকড় করা হয়। গতকাল নারায়ণগঞ্জে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক থেকে আটক করা হয় মহানগর বিএনপির সহসভাপতি সাখাওয়াত হোসেন খান ও সহ-আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদসহ ১০ জনকে। নরসিংদীতে বিএনপির কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক সানাউল্লাহ মিয়াকে আটক করে পরে ছেড়ে দেওয়া হয়। এ বিষয়ে গতকাল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সেতু ভবনে সাংবাদিকদের বলেন, দুর্নীতির মামলার রায়কে কেন্দ্র করে আদালতের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে বিএনপি চেয়ারপারসন সড়কপথে সিলেটে শোডাউন করতে গেছেন। তিনি বলেন, ‘এটার কোনো দরকার ছিল না, কারণ তাঁর এজেন্ডা হচ্ছে সেখানে মাজার জিয়ারত করা। মাজার জিয়ারত করার জন্য তিনি রাস্তায় শোডাউন করবেন! রাস্তা দখল করলে পুলিশ সেখানে বাধা দেবেই। ’ ৮ ফেব্রুয়ারি রায়কে কেন্দ্র করে যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবেলায় মাঠে থাকবেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) কাউন্সিলররা। ডিএসসিসির নগর ভবনে গতকাল দুপুরে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে মেয়র সাঈদ খোকনের সভাপতিত্বে এক সভায় উপস্থিত কাউন্সিলররা মাঠে থাকার কথা জানান। চট্টগ্রাম থেকে আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের আশঙ্কায় চট্টগ্রাম বিমানবন্দর সড়ক বুধ ও বৃহস্পতিবার দুই দিনের জন্য বন্ধ করে দিয়েছে নগর পুলিশ। একই সঙ্গে মঙ্গলবার রাত থেকেই ঢাকামুখী বাস চলাচল ‘নয়ন্ত্রণ করে অঘোষিত হরতাল’ পরিস্থিতি তৈরি করতে যাচ্ছে। গতকাল বিকেলে নিজ কার্যালয়ে পরিবহন মালিক-শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে এক বৈঠকে এসব সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন সিএমপি কমিশনার মো. ইকবাল বাহার। বৈঠকে নগর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ছাড়াও পরিবহন মালিক-শ্রমিক সংগঠনের অন্তত ৩০ জন নেতা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে নগর পুলিশ কমিশনার বলেন, ২০১৩-১৪ সাল এবং ২০১৮ সালের পরিস্থিতি এক নয়। রাষ্ট্রের নিরাপত্তার স্বার্থে নগরের সিমেন্ট ক্রসিং থেকে পতেঙ্গা ১১ নম্বর ঘাট পর্যন্ত সড়ক দুই দিন বন্ধ থাকবে। নগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মামলার রায়কে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম থেকে বিএনপি নেতাকর্মীদের ঢাকায় যাওয়ার কোনো পরিকল্পনা বা নির্দেশনা নেই। তাই চট্টগ্রাম থেকে কেউ ঢাকায় যাবে না। পুলিশের বাস চলাচলের নিয়ন্ত্রণ হতে পারে সরকারের ঢাকা অবরোধ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অংশ। ’ রংপুর অফিস জানায়, রায় ঘোষণার দিন দলীয় কার্যালয়ে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা অবস্থান কর্মসূচি পালন করবে। গতকাল রংপুর মহানগর বিএনপির সহদপ্তর সম্পাদকসহ কয়েকজন নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ময়মনসিংহ থেকে নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেক নেতা বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র অবস্থান করছেন। অনেকে ঢাকা আসার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। খুলনা অফিস জানায়, খুলনায় বাস ও ট্রেনের টিকিট বিক্রি স্বাভাবিক আছে। বিএনপির নেতাকর্মীরা ঢাকা আসতে পারেন।

No comments:

Post a Comment

Post Bottom Ad

Responsive Ads Here