উড়ছে টাকা ভোটের মাঠে - Chuadanga News | চুয়াডাঙ্গা নিউজ | ২৪ ঘন্টাই সংবাদ

Sidebar Ads

test banner

Breaking

Home Top Ad

Responsive Ads Here

Post Top Ad

Responsive Ads Here

Monday, July 23, 2018

উড়ছে টাকা ভোটের মাঠে


সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) নির্বাচনের প্রচারের শেষ দিকে এসে চলছে টাকার খেলা। ভোট কিনতে কেউ দিচ্ছেন নগদ টাকা, আবার কেউ টাকার পরিবর্তে দিচ্ছেন নির্দিষ্ট কোনো দোকানের স্লিপ। ওটা নিয়ে দোকানে গেলেই মিলছে চাল-ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও মহল্লার ক্লাবগুলোতে আর্থিক অনুদান বিতরণের মাধ্যমেও ভোটারদের কাছে টানার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।
স্থানীয় বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচনে কালোটাকা ও পেশিশক্তির প্রভাব বন্ধ না করা গেলে সুষ্ঠু ভোট সম্ভব নয়। তাই এখনই কমিশনকে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। রিটার্নিং অফিসার জানিয়েছেন, লিখিত অভিযোগ পেলেই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছেন, মেয়র প্রার্থীরা এখনো টাকা দিয়ে ভোট কেনা শুরু না করলেও অনেক দিন আগেই শেষ হয়েছে তাদের ঘোষিত নির্বাচনী ব্যয়সীমা। এখন তারা যে টাকা খরচ করছেন তার প্রায় সবই কালোটাকা বা অবৈধ টাকা। স্থানীয়রা বলছেন, নগরীর নিম্নবিত্ত শ্রেণিকে টার্গেট করে ভোটের এক-দুই দিন আগে মেয়র প্রার্থীদের পক্ষে ভোট কেনার চেষ্টা চালানো হবে। বিশেষ করে বস্তি এলাকার ভোট কেনার চেষ্টা করবেন প্রার্থীরা। আগের নির্বাচনগুলোতেও তাই হয়েছে। গতকাল সরেজমিনে নগরীর বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডে গিয়ে টাকা বিতরণের কিছু প্রমাণও মিলেছে। বিশেষ করে বস্তি এলাকার আশপাশের দোকানগুলোর বেচাকেনা আগের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ। অনেক দোকানি পূর্বের বকেয়া পাওনাও ফের পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন। নগরীর ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাদামবাগিচা বাজারের খান ভ্যারাইটিজ স্টোরের মালিক আজম খান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানান, নির্বাচন মৌসুম শুরু হওয়ার পর থেকে তার দোকানে বেচা-বিক্রি প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। আগে প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা বিক্রি করলেও এখন তার দোকানের দৈনিক ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত বেচাকেনা হয়। ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাগবাড়ী এলাকার কামালের বস্তির পার্শ্ববর্তী মুদি দোকানদার তজম্মল আলীও নিজের দোকানে বিক্রি বাড়ার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আমার ছোট দোকান, আগে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা বিক্রি করতাম। এখন প্রায় ৮-১০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি করতে পারি। ভোট শুরু হওয়ার পর অনেকে পুরনো বকেয়াও দিয়েছে বলে জানান তজম্মল আলী। হঠাৎ কেন বিক্রি বাড়ল, এমন প্রশ্নে তজম্মল জানান, ভোট আসছে, বিক্রি তো বাড়বেই। এখন সবার হাতে টাকা আছে। প্রতিদিনই টাকা পায়। প্রচার-প্রচারণায় গেলেই তো টাকা পাওয়া যায়। আবার বস্তিতে ভোট চাইতে যারাই আসে, কমবেশি টাকা দিয়ে যায়।এ বিষয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সিলেট জেলা শাখার সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধুরী বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, যে ভাবে আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা চলছে তাতে শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী পরিবেশ কী হবে, তা নিয়ে আমরা সন্দিহান। প্রচুর কালো টাকা ব্যয় করা হচ্ছে সিলেটে। পেশি শক্তির প্রদর্শনও চলছে। তিনি বলেন, শুরু থেকে নির্বাচন কমিশন কঠোর ভূমিকা রাখতে পারলে পরিবেশ এমন হতো না।
এ বিষয়ে সিলেটের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসার মো. আলীমুজ্জামান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানান, আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে বেশ কিছু লিখিত অভিযোগ এলেও এখনো টাকা বিতরণের বিষয়ে কেউ কোনো লিখিত অভিযোগ করেনি। তবে কয়েকজন কাউন্সিলর প্রার্থী মৌখিকভাবে আমাদের জানিয়েছেন। তিনি বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলেই এসব বিষয়ে তদন্ত করে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কাউন্সিলর প্রার্থীদের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ : নগরীর ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী ও বর্তমান কাউন্সিলর ফরহাদ চৌধুরী শামীম অভিযোগ করে বলেন, কালো টাকার মালিক প্রার্থীরা ভোট কেনার চেষ্টা করছে। ভোটারদেরকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। তবে আমি আশা করি বিবেকবান ভোটারদের টাকা দিয়ে কেনা যাবে না। এই ওয়ার্ডের আরেক কাউন্সিলর প্রার্থী ইমদাদ হোসেন চৌধুরী বলেন, প্রতিবারই নির্বাচনে কালোটাকা নিয়ে ভোট কেনা হয়। এবারও টাকা দিয়ে বস্তির ভোট কেনার পাঁয়তারা চলছে। এটি বন্ধ করা না গেলে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব হবে না।
৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী ও বর্তমান কাউন্সিলর মোখলেসুর রহমান কামরান বাংলাদেশ প্রতিদিনের কাছে অভিযোগ করে বলেন, আমার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী নজরুল ইসলাম বাবুল ও তার সমর্থকরা বস্তিতে বস্তিতে গিয়ে রাতে স্লিপ দিয়ে আসেন। সকালে ওই স্লিপ নিয়ে নির্দিষ্ট দোকান থেকে চাল, ডাল ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে আসেন ভোটাররা। টাকা দিয়ে ভোট কেনার বিষয়ে নির্বাচন কমিশনে তিনটি অভিযোগ দাখিল করেছেন বলেও জানান কামরান। এসব অভিযোগ অস্বীকার করে কামরানের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী নজরুল ইসলাম বাবুল বলেন, নির্বাচনে পরাজয়ের ভয়ে কামরান মিথ্যাচার করছে। সাংবাদিকের ওপর হামলা চালিয়ে কামরান প্রমাণ করেছে সে শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশে বিশ্বাসী নয়। কামরানই একের পর এক আচরণ বিধি লঙ্ঘন করছে বলে অভিযোগ বাবুলের।

No comments:

Post a Comment

Post Bottom Ad

Responsive Ads Here