টিভি সমালোচনা পিতার যোগ্য উত্তরসূরি শিল্পী ফাহমিদা নবী - Chuadanga News | চুয়াডাঙ্গা নিউজ | ২৪ ঘন্টাই সংবাদ

Sidebar Ads

test banner

Breaking

Home Top Ad

Responsive Ads Here

Post Top Ad

Responsive Ads Here

Thursday, January 11, 2018

টিভি সমালোচনা পিতার যোগ্য উত্তরসূরি শিল্পী ফাহমিদা নবী

সপ্তাহের ছুটির দিন দুটিতে প্রায় প্রতিটি চ্যানেলই প্রচার করে বিশেষ নাটক ও টেলিছবি। কিন্তু সেই সব নাটক ও টেলিফিল্মের কোনটি যে নতুন আর কোনটি পুনঃপ্রচার, তা কারোরই বোঝার সাধ্য নেই। কারণ কোনো চ্যানেলই এটি স্পষ্ট করে বলে না। বললে ভালো হতো। আর পুরোনো অনুষ্ঠানের পাশাপাশি সপ্তাহে অন্তত একটি নাটক ও একটি টেলিছবি যদি নতুন প্রচার করা হতো, তাহলে অনেক সমৃদ্ধ হতো আমাদের শিল্পের ভুবন।

আমাদের আলোচনার বিষয় সরাসরি গানের অনুষ্ঠান ‘ইচ্ছে গানের দুপুর’। দিঠি আনোয়ারের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানটি প্রচারিত হলো ৫ জানুয়ারি শুক্রবার বেলা ২টা ৩০ মিনিটে মাছরাঙা টিভিতে। এদিন শিল্পী ছিলেন ফাহমিদা নবী। একই দিন সন্ধ্যায় তিনি বাংলাভিশনে একটি গানের অনুষ্ঠান উপস্থাপনাও করেন। বর্তমান তরুণ প্রজন্মের কথা বিবেচনা করলে শিল্পী ফাহমিদা নবীকে বলা যায় পূর্ববর্তী প্রজন্মের। কিন্তু বর্তমান তরুণ প্রজন্মের কাছেও তিনি সমান জনপ্রিয়।

এই অনুষ্ঠানে তিনি একটানা দুই ঘণ্টারও অধিক সময় ধরে গান করেছেন। অধিকাংশই করেছেন নিজের গান, তার সঙ্গে দু-একটি বাবা মাহমুদুন্নবীর গান। এক কথায় বলা যায়, পিতার যোগ্য উত্তরসূরি শিল্পী ফাহমিদা নবী। তাঁর কণ্ঠ মিষ্টি ও আকর্ষণীয়। অনেকের ক্ষেত্রেই লক্ষণীয়, বয়সের সঙ্গে সঙ্গে সুরের পর্দা থেকে কণ্ঠ সরে যায়, কিন্তু ফাহমিদা নবীর কণ্ঠ এখনো সুরের পর্দায় সাবলীল। তিনি শুরু করেছেন বাবা মাহমুদুন্নবীর বিখ্যাত ‘আমি সাত সাগর পাড়ি দিয়ে’ গানটির মাধ্যমে। তারপর একে একে নিজের গানই করে গেছেন। যেমন ‘মনটা তোমার হতো যদি আবেগী এক নদী’, ‘সাদা কালো জীবনে আমার রং যে দিয়েছ তুমি’, ‘আকাশজুড়ে বসে আছি তা-ও কেন দেখছ না’, ‘মনে কি পড়ে না’, ‘লুকোচুরি লুকোচুরি গল্প’ ইত্যাদি। আবার নিজের সুরেও গান করেছেন তিনি। যেমন ‘কে তুমি কে তুমি বলো না আমায়’। সব মিলিয়ে পুরো অনুষ্ঠানটি নিজের উপস্থাপনা দিয়ে মাতিয়ে রেখেছিলেন তিনি।

শিল্পীকে তাঁর কর্ম, সাধনা ও নিজস্ব বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে রচনা করতে হয় আপন ভিত্তি। অনেকে সেটা পারেন; অনেকে পারেন না, বোঝেনও না। এ ক্ষেত্রে শিল্পী ফাহমিদা নবীকে বলা যায় আপন বৈশিষ্ট্যে সমুজ্জ্বল। তাঁর গানের কথায়, সুরে ও উপস্থাপনায় রয়েছে নিজস্ব বৈশিষ্ট্য। তাঁর গানগুলো মনে হয় হৃদয়ের গল্প। লুকোচুরি লুকোচুরি গল্প। এই অনুষ্ঠান দেখেও মনে হয়েছে, তাঁর কাছে আমাদের বর্তমান তরুণ প্রজন্মের অনেক কিছু শেখার আছে।

৫ জানুয়ারি সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে সাবেরী আলমের উপস্থাপনায় দেশ টিভিতে প্রচারিত হলো ভিন্নধর্মী একটি অনুষ্ঠান নামেনামেটক্কর। এই অনুষ্ঠানে একই নামধারী লেখক, শিল্পী বা কলাকুশলী দুজনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। তারপর তাঁদের ব্যক্তিগত জীবন, কর্মক্ষেত্র, বেড়ে ওঠা ইত্যাদি বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। অনুষ্ঠানটি সম্পর্কে শুনে যতটা আগ্রহ জাগে, দেখে কেন জানি না ঠিক ততটা আকর্ষণীয় মনে হয় না। একই নামধারী দুজন দেখা যায় অধিকাংশ ক্ষেত্রেই হয় স্বল্প পরিচিত বা দুই ভুবনের বাসিন্দা। ফলে কথোপকথন অন্তরঙ্গ না হয়ে হয় অনেকটা আনুষ্ঠানিক।

যেমন এই দিন অতিথি হিসেবে ছিলেন সংবাদ উপস্থাপক ফারহানা নিশো ও অভিনেতা আফরান নিশো। তাঁরা পারিবারিকভাবে পরিচিত হওয়ার পরও কথোপকথনে যেন ঠিক জমল না। হতে পারে তাঁরা ব্যক্তিগত জীবনে ও কর্মক্ষেত্রে আলাদা বলে। তা ছাড়া উপস্থাপিকা সাবেরী আলমও অনেকটা আনুষ্ঠানিক প্রশ্নোত্তরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলেন, কোনো হিউমার বা সরস আলাপচারিতার দিকে যাননি। তা ছাড়া তাঁর উপস্থাপনার ধরনেও রয়েছে সাবলীলতা ও অন্তরঙ্গতার অভাব। ফলে দর্শক যতটা আগ্রহ নিয়ে বসেছে, অনুষ্ঠান শেষে ততটাই হতাশা নিয়ে উঠেছে। কাজেই আমাদের মনে হয়েছে অনুষ্ঠানটি নিয়ে কর্তৃপক্ষের নতুন করে ভাবার অবকাশ রয়েছে।

Post Bottom Ad

Responsive Ads Here