২৯ ইঞ্চির বাশোরি, বয়স ৫০! - Chuadanga News | চুয়াডাঙ্গা নিউজ | ২৪ ঘন্টাই সংবাদ

Sidebar Ads

test banner

Breaking

Home Top Ad

Responsive Ads Here

Post Top Ad

Responsive Ads Here

Saturday, February 3, 2018

২৯ ইঞ্চির বাশোরি, বয়স ৫০!

বাশোরিকে পেছন থেকে দেখলে কেউ ‘শিশু’ বলে মনে করতেই পারেন। কিন্তু সামনে থেকে দেখলে পঞ্চাশোর্ধ্ব বয়সকে হার মানাবে। বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত পরিচালিত ‘উত্তরা’ ছবির অন্তিম পর্বে ধর্ষিতা-লাঞ্ছিতা উত্তরাকে এক বামন মানুষ এসে বলেছিলেন যে, তার সঙ্গে তাদের দেশে যেতে। স্বাভাবিক চেহারার মানুষের মতো তারা হিংসাপরায়ণ নন। বামন বা খর্বকায় মানুষের বেদনাকে চিনতে গেলে পড়তে হতে পারে মতি নন্দীর ‘ছোটবাবু’, পড়তে হতে পারে গুন্টার গ্রাসের ‘দ্য টিন ড্রাম’। অবশ্য গ্রাসের উপন্যাসের নায়ক অস্কার সভ্যতার রকম-সকম দেখে নিজেও বেড়ে ওঠা বন্ধ করে দিয়েছিল। এসব কাহিনীর ধার ধারেন না বাশোরি লাল। মধ্যপ্রদেশের এক গ্রামের বাসিন্দা বাশোরিকে পেছন থেকে দেখলে কেউ ‘শিশু’ বলে মনে করতেই পারেন। কিন্তু সামনে থেকে দেখলে তার পঞ্চাশোর্ধ্ব বয়সকে স্বীকার করতেই হবে। আন্তর্জাতিক ও জাতীয় সংবাদ মাধ্যমে এ মুহূর্তে বাশোরি সেলিব্রিটি। কারণ বাশোরির উচ্চতা ২৯ ইঞ্চি। দাদা গোপী লালের সাক্ষ্য থেকে জানা যায়, ৫ বছর বয়স পর্যন্ত বাশোরির বৃদ্ধি স্বাভাবিকই ছিল। তার পরে কোনও অচেনা অসুখে তার বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে যায়। শ্রমজীবী এক গ্রামীণ পরিবারের পক্ষে কোনও চিকিৎসা করা সম্ভব হয়নি সেই সময়। ছোটবেলায় তার চেহারার কারণে সমবয়সীরা খুবই পেছনে লাগত বাশোরির। কিন্তু আজ খেলাটা একেবারেই ঘুরে গেছে। বাশোরি তার গ্রামের এক সম্মানিত সদস্য। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসেন তাকে দেখতে, তার ছবি তুলতে। শুধু শারীরিক গঠন নয়, বাশোরির হাবভাব অনেকটাই শিশুসুলভ। গোপী লালের স্ত্রী, অর্থাৎ বাশোরির বউদি সতিয়া প্রায় সন্তানের মতো যত্ন করেন দেবরের। স্নান করানো থেকে শুরু করে কোলে করে ঘুরতে নিয়ে যাওয়া— সবই বউদির জিম্মায়। এই ‘অস্বাভাবিক’ ভাইটিকে নিয়ে গর্বিত গোপী লালও। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ দেখতে আসেন তার ভাইকে। এটা তো কম কথা নয়! সতিয়াও জানিয়েছেন, বাশোরি অত্যন্ত খুশি মনের মানুষ। চার বছর বয়সেই মুখস্থ বইয়ের পর বই। স্মৃতি যেন কম্পিউটার। বিস্ময়বালককে নিয়ে তোলপাড়। তবে নিজের চেহারা নিয়ে কোনও অভিযোগ নেই তার। তথাকথিত স্বাভাবিক মানুষ যেখানে সারাদিন নিজেকে নিয়ে, নিজের দুর্বলতা নিয়েই নিজের মনে খুঁত খুঁত, ঘ্যান ঘ্যান করে চলে, বাশোরি সেখানে পরিতৃপ্ত তার ২৯ ইঞ্চি উচ্চতা নিয়ে। নিজের চারপাশে ভালো সঙ্গ পেলে আর দিনে এক গ্লাস হুইস্কি পেলে আর কিছুই লাগে না তার। হুইস্কি বাশোরি প্রতি রাতেই খান। তার মতে, এটা জীবনের প্রতি তার সেলিব্রেশন। অতৃপ্ত, অসন্তুষ্ট বিশ্বে একজন মানুষ তার সামান্য উচ্চতা নিয়েও যে এমন তৃপ্তি আর আনন্দে বেঁচে থাকতে পারেন, তার প্রমাণ বাশোরি প্রতিদিনই দিয়ে চলেছেন তার যাপন দিয়ে, তার কথা দিয়েও।

Post Bottom Ad

Responsive Ads Here