পরমাণু ও ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা স্থগিতের ঘোষণা উনের - Chuadanga News | চুয়াডাঙ্গা নিউজ | ২৪ ঘন্টাই সংবাদ

Sidebar Ads

test banner

Breaking

Home Top Ad

Responsive Ads Here

Post Top Ad

Responsive Ads Here

Sunday, April 22, 2018

পরমাণু ও ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা স্থগিতের ঘোষণা উনের

পরমাণু অস্ত্র ও আন্ত মহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ঐতিহাসিক বৈঠক সামনে রেখে  এ ঘোষণা দেন তিনি। তাঁর এ ঘোষণাকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া, চীন ও জাপান তাত্ক্ষণিকভাবে স্বাগত জানিয়েছে। তবে কিমের এ স্থগিতাদেশের ‘স্থায়িত্বকাল’ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন অনেক বিশ্লেষক।
উত্তর কোরিয়ার সরকারি সংবাদ সংস্থা-কেসিএনএর খবরে বলা হয়, উত্তর কোরিয়া পরমাণু অস্ত্র ও আন্ত মহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা বন্ধ রাখবে। কিম জং উন বলেছেন, আর কোনো পরীক্ষার দরকার নেই, কারণ উত্তর কোরিয়ার পরমাণু সক্ষমতা পরীক্ষিত। এ ছাড়া পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষার একটি স্থাপনা বন্ধের ঘোষণা দিয়ে উন বলেছেন, উত্তরাঞ্চলের ওই স্থাপনার মিশন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। কেসিএনএ জানায়,ক্ষমতাসীন দলের কেন্দ্রীয় কমিটির এক বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেন উন।
আগামী সপ্তাহে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে ইন এবং জুনের মধ্যে ট্রাম্পের সঙ্গে ঐতিহাসিক বৈঠকে বসার কথা রয়েছে উনের। এ দুটি দেশই দীর্ঘদিন ধরে উত্তর কোরিয়াকে পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচি থেকে সরে আসার জন্য চাপ দিচ্ছে এবং উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে তাদের মূল বিরোধও এই পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে। তাত্ক্ষণিক এক টুইটার বার্তায় ট্রাম্প লেখেন, কিম জং উন এক বার্তায় জানিয়েছেন, উত্তর কোরিয়া পরমাণু অস্ত্র ও আন্ত মহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা বন্ধ রাখবে। এ ছাড়া পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষার একটি স্থাপনা বন্ধ করা হবে। এটি সবার জন্য বড় অগ্রগতি। আরেক টুইট বার্তায় ট্রাম্প লেখেন, ‘এটা উত্তর কোরিয়া ও বিশ্বের জন্য একটা সুখবর; বড় অগ্রগতি। আমাদের বৈঠকের জন্য এগিয়ে চলুন।’
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট দপ্তরের এক বিবৃতিতে বলা হয়, উনের সঙ্গে ট্রাম্প ও মুন জায়ে ইনের আসন্ন বৈঠক ফলপ্রসূ করার ক্ষেত্রে উত্তর কোরিয়ার এ সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। উত্তর কোরিয়ার সবেচেয়ে বড় মিত্র চীন এক বিবৃতিতে বলেছে, উনের এ সিদ্ধান্ত কোরীয় উপদ্বীপের পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাবে।
মিশ্র প্রতিক্রিয়া এসেছে জাপানের কাছ থেকে। প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে স্বাগত জানালেও দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেছেন, উত্তর কোরিয়া মাঝারি ও স্বল্পমাত্রার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালানোর ব্যাপারে কিছু বলেনি।
উল্লেখ্য, উত্তর কোরিয়া মাঝারি কিংবা স্বল্পমাত্রার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালালে তা জাপানের ভূখণ্ডের ওপর দিয়েই যায়।
স্থগিত রাখার ঘোষণা দিলেও উন এটা পরিষ্কার করেননি যে উত্তর কোরিয়া পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচি থেকে সরে আসবে কি না। এ কারণে অনেকেই মনে করেন, উনের এ ঘোষণা সাময়িক।
যুক্তরাষ্ট্রের ট্রয় ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ডেনিয়েল পিংকস্টোন বলেন, নিশ্চিতভাবেই উনের সিদ্ধান্ত ইতিবাচক। কিন্তু পরমাণু অস্ত্র বিস্তার চুক্তির প্রতি উত্তর কোরিয়ার যে প্রতিশ্রুতি রয়েছে, তা পূরণে এ সিদ্ধান্ত যথেষ্ট নয়।
সামরিকবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের গবেষক ক্রিস্টোফার গ্রিন বলেন, উনের এ ঘোষণাকে পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচি থেকে সরে আসার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে দেখার কোনো সুযোগ নেই। এটা শুধু স্থগিতাদেশ, যেখানে পুনরায় শুরু করার পথ খোলাই আছে।
অনেকের প্রশ্ন, উন আগ বাড়িয়ে কেন এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিলেন? এ ব্যাপারে ফেডারেশন অব আমেরিকান সায়েন্টিস্টসের গবেষক অঙ্কিত পাণ্ডে বলেন, ‘উত্তরটা খুবই সহজ। ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে বসা উনের জন্য অনেক বড় একটা উপহার। কারণ উনের বাব-দাদা কারো এ অর্জন নেই। এ ছাড়া পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচি স্থগিত রাখলে উত্তর কোরিয়ার তো কোনো সমস্যা নেই। বরং ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক সফল হলে উত্তর কোরিয়া অনেক কিছুই পেতে পারে।

Post Bottom Ad

Responsive Ads Here