ছাদবাগানে কী নেই আকলিমুন নেছার - Chuadanga News | চুয়াডাঙ্গা নিউজ | ২৪ ঘন্টাই সংবাদ

Sidebar Ads

test banner

Breaking

Home Top Ad

Responsive Ads Here

Post Top Ad

Responsive Ads Here

Thursday, January 28, 2021

ছাদবাগানে কী নেই আকলিমুন নেছার


উদ্ভিদবিদ্যায় পড়াশোনা শেষ করা আকলিমুন নেছা একজন ‘শিক্ষিত’ ছাদকৃষক। টমেটো, লেটুস, মুলা, ফুলকপি, বাঁধাকপি, গাজর, শজনে, লেবু, মিষ্টিকুমড়া, লাউ, বেগুন, মটরশুঁটি, পেঁপে, হলুদ, আদা, শর্ষে, ধনিয়া, রসুন, পেঁয়াজ, কচুশাক, পাথরকুচি, নিম, তুলসী, গাইনুরা সবই আছে তাঁর ছাদবাগানে। গাছকে পোকামাকড় থেকে রক্ষায় নিজের নিমগাছের পাতা দিয়েই তৈরি করেন তেল। সবজির খোসাসহ বিভিন্ন জিনিস দিয়ে বানান জৈব সার। হাত পরাগায়নসহ ১জি, ২জি, ৩জি (জেনারেশন) পদ্ধতিতে গাছ পরিচর্যার সব কাজ তিনি নিজেই করেন।

 রাজধানীর বাংলাদেশ নৌবাহিনী স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক আকলিমুন নেছা মোহাম্মদপুরে নিজেদের পাঁচতলা ভবনের ছাদে প্রায় ২৪ বছর ধরে বসবাস করছেন। ছোটবেলা থেকে গাছ ভালোবাসতেন তিনি। নিজের উদ্ভিদবিদ্যায় পড়াশোনার পাশাপাশি বিয়ের পর দেখলেন শ্বশুর, শাশুড়ি নিজেরাই ছাদবাগান করেন। সব মিলিয়ে গাছের সঙ্গ ত্যাগ করতে হয়নি তাঁকে। বরং ধীরে ধীরে পরিকল্পিতভাবে গাছ লাগানোর বিষয়টি রপ্ত করছেন।স্বামী দানিয়াল রব্বানী আর তিন ছেলেমেয়ে নিয়ে আকলিমুন নেছার সংসার। স্বামী মাছ-মাংস খান না, সব সময় শাকসবজি খান। ছেলেমেয়েরাও নিজেদের গাছের সবজি পছন্দ করে।আকলিমুন নেছা জানালেন, সারা বছরের শাকসবজি, ফল সবকিছুই পাচ্ছেন ছাদবাগান থেকে।এতে অর্থ সাশ্রয় হচ্ছে। পাশাপাশি প্রতিদিন ছাদে গিয়ে নিজের পছন্দ অনুযায়ী সবজি এনে রান্না করা যাচ্ছে। কীটনাশকমুক্ত সবজি খাওয়ার ফলে পরিবারের সদস্যরা সুস্থ থাকতে পারছে।আকলিমুন নেছার মতে, গাছের সঙ্গে থাকা একধরনের বিনোদনের কাজ করে। এতে মন ভালো থাকে। সময় ভালো কাটে। শারীরিক পরিশ্রম করার ফলে নিজের শরীরকেও সুস্থ রাখা যায়।

আকলিমুন নেছার ছাদবাগানে গিয়ে দেখা যায়, শিম, মিষ্টিকুমড়াসহ বেশির ভাগ গাছের আকার একেবারে ছোট ছোট। টবেই মিষ্টিকুমড়ার গাছে ফুল ধরেছে। ছোট গাছগুলোতেই ধরে আছে শিম, মিষ্টিকুমড়াসহ বিভিন্ন সবজি। আকলিমুন নেছা জানালেন, ১জি, ২ জি, ৩জি জেনারেশন বা নির্দিষ্ট নিয়মে গাছের ডগা কেটে দেন। এতে ফুল ও ফলের সমন্বয় করা যায়। গাছ শুধু লম্বায় বড় না হয়ে চারপাশে ডালপালা গজায় বলে ঝোপের মতো হয়। এতে গাছ বেশি পুষ্টি পায়, ফলন বেশি হয়।পুরুষ ও স্ত্রী ফুলের মধ্যে হাত পরাগায়নের কাজটিও আকলিমুন নেছা নিজেই করেন। বললেন, গাছের মেজাজ ও সময় অনুযায়ী এ পরাগায়নের কাজটি করে দিলে ফলন বেশি হয়।আকলিমুন নেছার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি রাজধানীর মিরপুর–১৪–তে অবস্থিত। মোহাম্মদপুর থেকে সেখানে যাতায়াতে অনেক সময় লেগে যায়। তবে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় যাতায়াত করতে হচ্ছে না। তিনি বললেন, করোনায় ছাদবাগানকে পরিকল্পিতভাবে সাজানো সম্ভব হয়েছে। ছাদবাগানে সময় একটু বেশি দেওয়া যাচ্ছে।

ছাদে ফুলকপি, বাঁধাকপি লাগানো হয়েছে পুরোনো বাথটাবে। একটি নষ্ট কমোডে লাগানো হয়েছে শিমগাছ। ভাঙা বেসিন, ডিশসহ বিভিন্ন পাত্রকেই টব হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। ছাদের মেঝে থেকে বেশ খানিকটা ওপরে বিশেষ পদ্ধতিতেও বানানো স্থায়ী জায়গাগুলোতেও গাছ লাগানো হয়েছে। আকলিমুন নেছার মতে, টব নিয়ে চিন্তা করার কিছু নেই। গাছগুলো বড় হতে পারে কি না, তা দেখতে হবে। মাটির সঙ্গে নারকেলের ছোবড়া, বালু মেশাতে হবে। গাছের নিচের অংশে যাতে কোনো ডাল-পাতা না থাকে, তা খেয়াল রাখতে হবে। পাতা থাকলে তা মাটিতে লেগে পোকামাকড় হয়। গাছকে ভালোবাসতে হবে, যত্ন করতে হবে।

ছাদেই একটি ঢাকনা দেওয়া ড্রামে সবজির খোসাসহ পচনশীল বিভিন্ন জিনিস পচানো হচ্ছে।আরেকটিতে বিভিন্ন গাছের পাতাসহ শুকনা জিনিস রাখা। এগুলো দিয়ে জৈব সার বানান আকলিমুন নেছা। তুলসী বা গাইনুরার মতো গাছগুলো দিয়ে পরিবারের সদস্যদের কাশি, অ্যাসিডিটির মতো সমস্যার সমাধান করা হয়।

আকলিমুন নেছা সরকারের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, মৃত্তিকা সম্পদ ইনস্টিটিউটসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে ছাদকৃষি বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। বললেন, তিনি প্রতিনিয়ত শিখছেন। বাজার থেকে বীজ কেনার পরিবর্তে তিনি কিছু গাছ রেখে দেন বীজ সংগ্রহের জন্য। শর্ষেগাছ থেকে শুকনা শর্ষে সংগ্রহ করে রেখেছেন বীজের জন্য। পুঁইশাক, ডাঁটাসহ বিভিন্ন গাছেরও বীজ সংগ্রহ করে রাখেন।ছেলেমেয়েরা পড়াশোনা শেষ করে একসময় নিজেদের জীবন নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়বে। এ ধরনের একাকী জীবনেও ছাদের গাছই সঙ্গ দেবে—এভাবেই বললেন আকলিমুন নেছা। তিনি স্বপ্ন দেখেন, নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী সবাই ছাদবাগান করলে একসময় গোটা শহরটাই সবুজে ঢেকে যাবে।গ্রিনহাউস প্রতিক্রিয়ার কবল থেকেও রেহাই মিলবে।

Post Bottom Ad

Responsive Ads Here