নিবন্ধন অ্যাপে,২৫ জানুয়ারির মধ্যে আসতে পারে টিকা - Chuadanga News | চুয়াডাঙ্গা নিউজ | ২৪ ঘন্টাই সংবাদ

Sidebar Ads

test banner

Breaking

Home Top Ad

Responsive Ads Here

Post Top Ad

Responsive Ads Here

Monday, January 11, 2021

নিবন্ধন অ্যাপে,২৫ জানুয়ারির মধ্যে আসতে পারে টিকা


৯০ কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি অ্যাপের মাধ্যমে টিকাগ্রহীতাদের নিবন্ধন করা হবে। দেশের সব মানুষের এ অ্যাপ ব্যবহারের সুযোগ নেই।


দেশে করোনাভাইরাসের টিকার প্রথম চালানটি আসতে পারে ২১ থেকে ২৫ জানুয়ারির মধ্যে। ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটের কাছ থেকে যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড–অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা আমদানিতে চুক্তিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজমুল হাসান গতকাল রাতে প্রথম আলোকে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, কোভিশিল্ড নামের এ টিকার প্রথম চালানে আসতে পারে ৫০ লাখ ডোজ। এরপর প্রতি মাসেই ৫০ লাখ করে টিকা আসবে।   


এদিকে স্বাস্থ্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নম্বর ব্যবহার করে অ্যাপের মাধ্যমে করোনার টিকার জন্য নিবন্ধন করতে হবে। এ অ্যাপ তৈরিতে প্রায় ৯০ কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে। খুব শিগগির এ অ্যাপ তৈরির কাজ শেষ হবে। 


স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এমআইএস (ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম), সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগ এ অ্যাপ তৈরির সঙ্গে যুক্ত। এ কাজে তারা নির্বাচন কমিশন এবং সরকারি মুঠোফোন অপারেটর কোম্পানি টেলিটকের সহায়তাও নেবে। কর্মকর্তারা বলেছেন, টিকা দেওয়া শুরু হওয়ার ১৫ থেকে ২০ দিন আগে অ্যাপের বিষয়টি দেশবাসীকে জানিয়ে দেওয়া হবে। 

গতকাল রোববার এমআইএসের পরিচালক ডা. হাবিবুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘খুব সুনির্দিষ্টভাবে দিন-তারিখ বলা সম্ভব না হলেও এটুকু বলা যায় যে শিগগির অ্যাপ চূড়ান্ত হবে।’ তিনি আরও বলেন, অ্যাপ তৈরির জন্য ৯০ কোটি টাকার মতো প্রয়োজন হবে। অধিদপ্তর এ টাকা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে চেয়েছে।


* টিকা দেওয়া শুরুর ১৫ থেকে ২০ দিন আগে অ্যাপের বিষয়টি দেশবাসীকে জানানো হবে। * কোন কেন্দ্রে কবে টিকা দেওয়া হবে, তা খুদে বার্তার মাধ্যমে জানানো হবে।

নির্বাচন কমিশন সূত্র জানিয়েছে, দেশে প্রায় ১১ কোটি মানুষের জাতীয় পরিচয়পত্র আছে। ১৮ বছরের বেশি বয়সী প্রায় সব নাগরিকের জাতীয় পরিচয়পত্র আছে। তবে জাতীয় পরিচয়পত্রে ভুল তথ্যের বিষয়ও সম্প্রতি সংবাদপত্রে ছাপা হয়েছে। সারা দেশে কত মানুষের জাতীয় পরিচয়পত্রে কী পরিমাণ ভুল আছে, সে তথ্য অবশ্য কারও কাছে নেই।


স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নতুন অ্যাপে জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর ব্যবহার করে নিবন্ধন করতে হবে। জাতীয় পরিচয়পত্র বহনকারী কোথায় টিকা নিতে চান, সেই (অর্থাৎ স্থায়ী নাকি বর্তমান ঠিকানার এলাকা) স্থান নির্বাচন করতে হবে। পাশাপাশি একটি মুঠোফোন নম্বর দিতে হবে।


স্বাস্থ্য অধিদপ্তর যে অ্যাপ ব্যবহারের কথা বলছে, তা শুধু স্মার্টফোনে ব্যবহার করাই সম্ভব। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) সর্বশেষ গত নভেম্বরের তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশে মুঠোফোনের সক্রিয় সিম আছে ১৬ কোটি ৮৪ লাখ। তাঁদের মধ্যে ৪০ শতাংশ স্মার্টফোন ব্যবহার করেন বলে টেলিযোগাযোগ খাত–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন। দেশে অনেক পরিবারে কোনো মুঠোফোন নেই, স্মার্টফোন না থাকা পরিবারের সংখ্যা আরও বেশি।


প্রত্যন্ত অঞ্চলের স্মার্টফোন না থাকা ব্যক্তিরা কীভাবে করোনার টিকা পাওয়ার জন্য নিবন্ধন করবেন, জানতে চাইলে জাতীয় কোভিড-১৯ টিকা বিতরণ কোর কমিটির প্রধান ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক মীরজাদী সেব্রিনা গত বৃহস্পতিবার প্রথম আলোকে বলেন, ‘দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে তথ্যসেবা কেন্দ্র আছে। সেই কেন্দ্র থেকে নিবন্ধনে সহায়তা করা হবে। এ ব্যাপারে এলাকায় প্রচার-প্রচারণা চালানো হবে।’


স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা বলেছেন, অ্যাপ ব্যবহারের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য কী কী সমস্যা হতে পারে, তা নিয়ে কাজ করছেন বিশেষজ্ঞরা। তথ্যপ্রযুক্তি ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ সুমন আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘সব মানুষ অ্যাপ ব্যবহার করে নিবন্ধন করতে পারবেন না। নিবন্ধনের অন্য বিকল্পও থাকতে হবে। তা না হলে বহু মানুষ শুধু নিবন্ধিত না হওয়ার কারণে টিকা পাওয়া থেকে বাদ পড়ে যেতে পারেন।’

Post Bottom Ad

Responsive Ads Here